মহিলাদের ৩ হাজার টাকার ভাতার বদলে অ্যাকাউন্টে ঢুকছে দেড় হাজার! হঠাৎ কেন কমল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা?

রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। গত জুন মাস থেকে রাজ্যের যোগ্য মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ হঠাৎ করেই অর্ধেক হয়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
সূত্রের খবর, ৩২ বছর বয়সী এক তরুণী গত জুন ও জুলাই মাসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পুরো ৩ হাজার টাকাই পেয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কিস্তিতে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে মাত্র দেড় হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্নপূর্ণা ভাতার পরিবর্তে তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকেছে। অথচ তিনি নিজে থেকে বিধবা ভাতার জন্য কোনো আবেদনই করেননি। ঠিক কী কারণে এমন অদলবদল ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কিছুদিন আগেই প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, অন্নপূর্ণা যোজনা কিংবা বিধবা ভাতা—এর মধ্যে যেকোনো একটি প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন মহিলারা। এই নিয়মের জেরে নতুন করে তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু হয়েছে। আর সেই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাঝেই অনেকের নাম বা ক্যাটেগরি পরিবর্তিত হওয়ায় ভাতার অঙ্কে এই হেরফের ঘটছে। যদিও এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।
এদিকে আসন্ন অক্টোবর মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঠিক কবে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, তা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত অর্থ পৌঁছে যাবে বলে জানা যাচ্ছে।
সম্প্রতি এক জনসভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ এবং নন্দীগ্রামের ৭০ হাজার ৩০০ জন দিদি-বোন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা সফলভাবে হাতে পেয়েছেন। বাকি যোগ্য উপভোক্তাদেরও খুব শীঘ্রই অর্থ দিয়ে দেওয়া হবে। ভেরিফিকেশন ও প্রসেসিংয়ের কাজ একেবারে শেষের পথে রয়েছে এবং একজন যোগ্য মহিলাকেও বঞ্চিত করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।