হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু! সুস্থ মানুষও কি মুহূর্তের মধ্যে ফুরিয়ে যান? জানুন চিকিৎসকের চাঞ্চল্যকর ও সতর্কবার্তা!

একদম সুস্থ মানুষ, হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন—কিন্তু হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায়। সম্প্রতি অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যু গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছে। ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর (CPR)-এর মতো জরুরি চেষ্টা চালালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক কি সত্যিই এতই আচমকা আসে? হায়দরাবাদের এক নামী বেসরকারি হাসপাতালের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমারের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর দাবি, প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হার্ট ফেলিওরের প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই আগে থেকে শরীরের ভেতরে সুপ্ত কোনো না কোনো ঝুঁকি বা শারীরিক সমস্যা কাজ করে।

চিকিৎসকের মতে, এই মারাত্মক ঝুঁকিগুলি অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে নীরবে শরীরের ক্ষতি করতে থাকে। তাই নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। হৃদ্‌রোগের পেছনে মূলত যে সমস্ত প্রধান ঝুঁকিগুলি কাজ করে, তা হল:

উচ্চ রক্তচাপ: একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলেও অনেকের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। অথচ এটি ধীরে ধীরে রক্তনালির ক্ষতি করে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

খারাপ কোলেস্টেরল (LDL): শরীরে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে রক্তনালির ভেতরে চর্বিজাতীয় প্লাক জমে পথ সরু করে দেয়, যা হঠাৎ রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

ধূমপান: ফুসফুসের পাশাপাশি এটি হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করে এবং রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়।

ডা. কুমারের বার্তা, এই বড় ধরনের ঝুঁকিগুলির অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই সময়মতো রক্তচাপ, শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা এবং ধূমপান ত্যাগ করার পাশাপাশি সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চা (সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট) অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি। বুকে চাপ বা ব্যথা, হাত-ঘাড়-চোয়ালে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলিকে গ্যাস বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *