স্পিকারের নোটিসের মুখে ফের বাড়তি সময় চাইছে এনসিপিআই! আজই শেষ হচ্ছে ডেডলাইন, কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?

দলত্যাগ বিরোধী আইনের নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আরও দুই সপ্তাহের অতিরিক্ত সময় চাইছে এনসিপিআই (NCPI)। এনসিপিআই সূত্রে খবর, এই মর্মে স্পিকারের কাছে চিঠি এবং ইমেল পাঠানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই এনসিপিআইকে জবাব দেওয়ার জন্য স্পিকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে। সূত্রের খবর, গতকাল সকালে স্পিকারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সময়সীমা বাড়ানোর চতুর্থ আবেদন
সুপ্রিম কোর্টের তরফে জবাব দেওয়ার জন্য এক মাস সময় দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকারের কাছেও সময় চাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল প্রাথমিকভাবে। কিন্তু পরে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে জানানো হয়েছিল যে নির্ধারিত ৮ অক্টোবর সময়ের মধ্যেই নোটিসের জবাব দেওয়া হবে। তবে তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব না হওয়ায় এবার অতিরিক্ত দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া হচ্ছে বলে এনসিপিআই নেতৃত্ব সূত্রে খবর।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে স্পিকারের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদেরা। তবে সেই আর্জি মঞ্জুর না করে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে চার সপ্তাহ নয়, দু’সপ্তাহের মধ্যেই জবাব দিতে হবে। স্পিকারের বেঁধে দেওয়া সেই দু’সপ্তাহের সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে। তার আগেই বুধবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ এনসিপিআই সাংসদদের পক্ষ থেকে ফের সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়। স্পিকার যদি এই আবেদন মঞ্জুর করেন, তবে চতুর্থবারের জন্য জবাব দেওয়ার সময় পাবেন এই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদ।
দলত্যাগ বিরোধী পদক্ষেপের জল কোন দিকে?
তৃণমূল ছেড়ে কেন তাঁরা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা হবে না—তা জানতে চেয়েছিলেন স্পিকার। এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য প্রথমে সাত দিন, পরে দ্বিতীয় দফায় তিন সপ্তাহ এবং তৃতীয় দফায় আরও দু’সপ্তাহ সময় পেয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদেরা।
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার আর্জি জানিয়ে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। একই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টেও পিটিশন দাখিল করেছে কালীঘাটপন্থী শিবির। সবমিলিয়ে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনে স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।