সতর্ক করার সুযোগও দিল না মৃত্যু! নানা পাটেকরকে কেড়ে নেওয়া কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট আসলে কতটা মারাত্মক?

বৃহস্পতিবার সকালে চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অত্যন্ত দুঃখজনক খবর নিয়ে এসেছে প্রবীণ বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণ। ৭৫ বছর বয়সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। চিকিৎসকরা টানা ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর (CPR) দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নামানোর পাশাপাশি আরও একবার এমন এক প্রাণঘাতী বিপদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা প্রায়শই কোনও পূর্বসংকেত ছাড়াই মানুষের জীবন কেড়ে নেয়।
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মূল পার্থক্য
অধিকাংশ মানুষই ‘হার্ট অ্যাটাক’ এবং ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-কে একই বলে ভুল করেন। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।
হার্ট অ্যাটাক: হৃদপিণ্ডের ধমনীতে রক্তপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি হলে হার্ট অ্যাটাক ঘটে।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট: এটি হৃদপিণ্ডের ‘বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা’ বা ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে ত্রুটিজনিত সমস্যা। এতে হৃদস্পন্দন হঠাৎ অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং হৃদপিণ্ড সারা শরীরে রক্ত পাম্প করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তবে অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের ফলেও হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে রূপ নিতে পারে।
পূর্বসংকেতহীন এই বিপদের লক্ষণ ও ঝুঁকির কারণ
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া দিক হলো এটি প্রায়শই কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ আঘাত হানে। এর তাৎক্ষণিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারানো, নাড়ির স্পন্দন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাস থেমে যাওয়া। খুব বিরল ক্ষেত্রে এর আগে বুকে অস্বস্তি, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যাঁদের অতীতে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, কিংবা হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা আছে, তাঁরা সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকেন। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের মতো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাস এই বিপদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে করণীয়
হৃদপিণ্ডের স্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে প্রতিটি সেকেন্ড এখানে অত্যন্ত মূল্যবান। যদি আপনার চোখের সামনে কেউ হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান, তবে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া জরুরি:
১. সাহায্যের জন্য ডাকুন: অবিলম্বে স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বা অ্যাম্বুলেন্সে খবর দিন।
২. সিপিআর (CPR) শুরু করুন: চিকিৎসকদের দল না পৌঁছানো পর্যন্ত রোগীর বুকের মাঝখানে অবিরাম ও দ্রুত চাপ (চেস্ট কম্প্রেশন) দিতে থাকুন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার এই চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
৩. এইডি (AED) ব্যবহার করুন: যদি কাছাকাছি কোনো শপিং মল বা জনসমাগমস্থলে অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (AED) উপলব্ধ থাকে, তবে তা ব্যবহার করুন। এই যন্ত্রের বৈদ্যুতিক শক হৃৎপিণ্ডকে পুনরায় সচল করতে সাহায্য করে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ সচেতনতার জন্য। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।)