উৎসবের মাঝেই বঙ্গে ডেঙ্গুর চোখরাঙানি! হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, কাঠগড়ায় কোন কোন জেলা?

উৎসবের আনন্দ ও আলো ঝলমলে আমঝড়ের মাঝেই রাজ্যজুড়ে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গি আতঙ্ক। উৎসবের মরশুমের মধ্যেই বঙ্গে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত পাঁচ দিনের পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে; কারণ মাত্র এই কদিনেই নতুন করে প্রায় ১ হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য ভবনে জরুরি বৈঠক
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে তৎপর হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনে একটি জরুরি প্রশাসনিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কী কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
কোন জেলায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই আড়াই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তিলোত্তমা কলকাতা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ছুঁইছুঁই। পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাতশো জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলার প্রতিটিতেও আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাতশোর কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলাগুলিতে বিশেষ নজরদারি ও মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের অ্যাডভাইজারি ও উপসর্গ সতর্কতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি সতর্কতামূলক অ্যাডভাইজারি জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, জ্বরের প্রথম দিন থেকেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গগুলির প্রতি কড়া নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ জ্বরের লক্ষণের সঙ্গে যদি কোনও কোমর্বিডিটি (Comorbidity) বা অন্যান্য জটিল শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উৎসবের এই দিনগুলিতে সাধারণ মানুষকেও অতিরিক্ত সতর্ক থাকার ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।