“যেদিন কাজ থামবে…” শেষ ইচ্ছা পূরণ হল না নানা পাটেকরের! ৭৫ বছর বয়সে চিরঘুমে অভিনেতা

“যেদিন কাজ থামবে, সেদিন নিজের কথা ভাবব।”— জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এক সাক্ষাৎকারে এমনই আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছিল নানা পাটেকরের গলায়। কিন্তু সেই অবসর আর জীবনে এল না। ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরকালের মতো বিদায় নিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই প্রবীণ ও বর্ণময় অভিনেতা। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে গোটা বিনোদন জগৎ।
“একজন শিল্পীর জীবন তো ধারের জীবন”
দু’বছর আগের এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন নানা। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “একজন শিল্পীর জীবন তো ধারের জীবন। নিজের জন্য বাঁচার সুযোগ আর কোথায়! আজ একটা চরিত্র হয়ে বাঁচছি, কাল অন্য একটা চরিত্র। কাজ থামলে নিজের কথা ভাবব ভেবেছিলাম, কিন্তু সেই দিনটা আর এল না।”
মঞ্চের অন্ধকার আর দর্শকদের হাততালির শব্দই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার মূল রসদ। তাঁর স্পষ্ট কথা ছিল, যেদিন ওই হাততালির শব্দ থেমে যাবে, সেদিনই অভিনেতার আসল মৃত্যু ঘটবে।
বাবার মন জয় থেকে সেলুলয়েডের শিখর
অনেকে সিনেমায় আসেন স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু নানা পাটেকরের শুরুর গল্পটা ছিল অন্যরকম। ছোটবেলায় নিজের অবয়ব নিয়ে সংশয়ে থাকা নানা শুধু বাবার মনোযোগ ও ভালোবাসা পেতেই অভিনয়ে নামেন। স্কুলে ‘বাল্মীকি’ নাটকে এক ছোট চরিত্রে অভিনয়ের পর বাবা যখন শহর থেকে ছুটে এসেছিলেন, তিনি বুঝেছিলেন বাবার মন জয়ের এটাই সেরা রাস্তা। সেই যে শুরু, তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবিরাম কাজ
বয়স বাড়লেও কখনোই কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি এই কিংবদন্তি। ২০২৩ সালের ‘দ্য ভ্যাকসিন ওয়ার’ হোক কিংবা ২০২৪ সালের মারাঠি ছবি ‘ওলে আলে’ এবং ‘বনবাস’—পর্দায় তাঁর তেজদীপ্ত উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। এমনকি ২০২৫-এর ‘হাউসফুল ৫’ থেকে সাম্প্রতিক ২০২৬-এর ‘ও রোমিও’, কিংবা প্রকাশ ঝা-এর ‘সংকল্প’ ওয়েব সিরিজ ও অনিল কাপুরের সঙ্গে ‘সুবেদার’ ছবিতেও তিনি দাপটের সঙ্গে কাজ করে গেছেন।
নানার এই প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নীতিন গড়কড়ি, যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বলিউডের অক্ষয় কুমার, জুনিয়র এনটিআর এবং বাংলার সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্টজনেরাও এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোকস্তব্ধ। মানুষটি চলে গেলেও তাঁর দীপ্ত চরিত্রগুলি চিরকাল বেঁচে থাকবে দর্শকের হৃদয়ে।