‘আমাদের গোল করতেই হবে’,-ডুরান্ডে ৪ গোল খাওয়ার বদলা নিতে মরিয়া মোহনবাগান! হুংকার পানোসের

ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে একশো চার গোলে হারের সেই চরম লজ্জা এবং আক্ষেপ এখনও সবুজ-মেরুন সমর্থকদের স্মৃতিতে তাজা। ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার সেই দগদগে ঘা বুকে নিয়েই এবার আরও একটি মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। তবে এবার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। আইএফএ (IFA) শিল্ডের ফাইনালে শুধু ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং ডুরান্ডের হারের বদলা নিয়ে নতুন মরশুমের আগে নিজেদের সম্মান ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ মোহনবাগানের সামনে।

যদিও কাগজ কলমে বর্তমান ফর্মের বিচারে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে পানোসের দল। সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে ১২০ মিনিট লড়াই করেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল মোহনবাগান। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের জাদুতে ফাইনালে পৌঁছায় তারা। অন্যদিকে, নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে সাত-দুই গোলে উড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে লাল-হলুদ শিবির। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বা প্রতিপক্ষের ফর্ম নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ মোহনবাগান কোচ পানোস। তাঁর সাফ কথা, অন্য দল কী করল তাতে তাঁর যায় আসে না, দলের ফুটবলাররা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিচ্ছে কিনা সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

ডুরান্ড কাপের ফাইনালের ফল নিয়ে সমর্থকদের মনে আক্ষেপ থাকলেও কোচ পানোস এই ম্যাচটিকে প্রতিশোধের লড়াই হিসেবে দেখতে নারাজ। তবে ডার্বির গুরুত্ব যে কতটা বেশি, তা তাঁর কথাতেও স্পষ্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্লাবের সম্মান, সুনাম এবং সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে মাঠে নামবে দল। অন্তত ম্যাচের শেষে যেন গর্বের সঙ্গে বলা যায় যে মাঠে খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন।

পাশাপাশি, সেমিফাইনালে দলের আক্রমণভাগের খামতি নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত কোচ। পাঞ্জাব ম্যাচে বলের দখল থাকলেও প্রতিপক্ষ বক্সে যথেষ্ট বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেনি দল। সেই সমস্যা কাটিয়ে ফাইনালে আরও ধারালো, দ্রুত এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার ছক কষেছেন তিনি। সেমিফাইনালের পর ফুটবলারদের সঙ্গে একাধিক দীর্ঘ বৈঠক করে ভুলত্রুটিগুলিও শুধরে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানোস।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে জাতীয় দল থেকে ফেরা ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে। ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো কঠিন সব দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ক্লাবে ফেরা তারকা ফুটবলাররা ফাইনালে কতটা সময় মাঠে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি কোচিং স্টাফ। ডুরান্ডের ফাইনালে ক্লান্তির যে খেসারত দিতে হয়েছিল, আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে সেই ভুল আর পুনরাবৃত্তি করতে নারাজ মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট। সব মিলিয়ে, ট্রফি জয় এবং সম্মান রক্ষার এই মহা-লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ময়দান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *