ভুয়ো ডাক্তার সায়দুলের কাণ্ডে তোলপাড়! জেরায় কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য এল সামনে?

চার বছরের এক শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ভুয়ো চিকিৎসক সায়দুল ইসলামকে অবশেষে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে হাজির করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ সেপ্টেম্বর। বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে অরণ্য রায় নামের চার বছরের এক শিশুর ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করেছিলেন সায়দুল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, যে চিকিৎসক অপারেশন করেছেন তিনি আসলে ভুয়ো। বিহার থেকে ভুয়ো ডিগ্রি ও জাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোগাড় করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল সায়দুলসহ পাঁচ ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে।

পুলিশের খাতায় নাম ওঠার পরই গা ঢাকা দেন সায়দুল। ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি করা হয়। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে— বর্ধমানের এক নার্সিংহোম মালিকের সহযোগিতায় দেশ ছেড়ে দুবাই পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’-এর সুবাদে ২৮ দিন কাটিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেশ এবং নিজের নার্সিংহোম ব্যবসার খোঁজখবর রাখতেন। এমনকি পাকাপাকিভাবে দুবাইয়ে থিতু হওয়ার ছক কষেছিলেন সায়দুল।

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে গোঁফ-দাড়ি কেটে ভোল পাল্টে দিল্লি ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাতে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। অন্যদিকে, ভুয়ো চিকিৎসকদের চক্র ভাঙতে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *