রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে এফআইআর-এর পরই বড় মোড়! মল্লিকার্জুন খাড়গের মেগা ‘লাঞ্চ ডিপ্লোমেসি’তে চাঞ্চল্য

রাজধানী দিল্লিতে বিরোধীদের নির্বাচন কমিশন বিরোধী উত্তাল বিক্ষোভ ও সাংসদদের আটকের পরদিনই বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া জোটের রাজপথ কাঁপানো মিছিলে রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই জোটের সলিল সলতে পাকাতে মেগা ‘লাঞ্চ ডিপ্লোমেসি’র আয়োজন করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
বুধবার দিল্লির বিখ্যাত ‘সাগর রত্ন’ রেস্তোরাঁয় বিরোধী জোটের সাংসদদের জন্য বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও শীর্ষ কংগ্রেস নেতৃত্বের পাশাপাশি উপস্থিত হন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবালও। হাই-প্রোফাইল এই সমাবেশকে ঘিরে রেস্তোরাঁর বাইরে পুলিশ ফুটপাত ঘিরে ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে এবং মোতায়েন করা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়।
‘লাঞ্চ ডিপ্লোমেসি’তে পরবর্তী বড় চাল?
সূত্রের খবর, সুস্বাদু খাবারের মাঝেই মধ্যাহ্নভোজে উপস্থিত বিরোধী নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে পরবর্তী যৌথ পদক্ষেপ ও আইনি কৌশল রচনা করেছেন।
মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ মুখপাত্র পবন খেরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক চিলতে হাসির সঙ্গে বলেন, “আজকের মেন্যুতে খাবার রয়েছে, আন্দোলন নয়।” রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এফআইআর প্রসঙ্গে খেরা চাঁছাছোলা ভাষায় জানান, “আমরা কোনো এফআইআর-কে ভয় পাই না, এটা তো সম্মানের পদক। নির্বাচন কমিশন সবার স্বাক্ষর চাইছে, আমরা নিশ্চিন্তে নথিতে সই করব। ভুলে গেলে চলবে না, বিরোধীদের এই সাংসদরা দেশের ৬৪ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন।”
রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কড়া পদক্ষেপ
উল্লেখ্য, এর আগের দিনই অনুমতি ছাড়া আকাশবাণী ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং দীর্ঘক্ষণ ধর্না-অবস্থান চালানোর অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে বিরোধী সাংসদরা যখন নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে হাঁটা লাগান, তখন পার্লামেন্ট স্ট্রিটে কার্যত ট্রাফিক অচল হয়ে পড়ে।
পুলিশ সাংসদদের নির্বাচন কমিশন ভবনে পৌঁছাতে বাধা দিলে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে নেতারা আকাশবাণী ভবনের বাইরেই রাস্তায় বসে পড়েন। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান ধর্মঘট দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে তাঁদের আটক করে সরায়।
২৫০ জন আটক, ৮ ঘণ্টার নাটকীয় অবসান
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ চলাকালীন প্রায় ২৫০ জন বিরোধী নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ হেভিওয়েট সাংসদরা ছিলেন।
অধিকাংশকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হলেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা সহ শীর্ষ সাংসদদের প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর রাত ১০টার পর মুক্তি দেওয়া হয়। রাজপথের এই নজিরবিহীন সসংঘাতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খাড়গের এই ‘মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক’ দিল্লির রাজনীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিল।