দেউলিয়া হওয়ার মুখে পাকিস্তান! প্রতি ২ জনের ১ জনই নিঃস্ব, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে ফাঁস পাক মুলুকের কঙ্কালসার চেহারা

একদিকে সরকারের বিনিয়োগ আকর্ষণের বড় বড় দাবি, অন্যদিকে তীব্র অর্থনৈতিক দুর্দশা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা—দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট পাকিস্তান। বিশ্বব্যাংকের (World Bank) সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন সামনে আসতেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে পাক মুলুকের কঙ্কালসার অর্থনৈতিক চেহারা। রিপোর্টে দেখা গেছে, পাকিস্তানে বর্তমানে প্রতি দুইজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষের বার্ষিক আয় ৩ ডলারেরও কম। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে দারিদ্র্যসীমার সর্বনিম্ন মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দৈনিক বা বার্ষিক ৩ ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

কেন রেকর্ড হারে বাড়ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা?
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তানে দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে:

কোভিড মহামারী ও বন্যা: কোভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠতে পাকিস্তান সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে বিধ্বংসী বন্যা দেশটির কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অশান্তি: দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) তীব্র অশান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে।

উদ্ভাবনের অভাব: বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিগুলি নতুন পণ্য ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির দিকে মনোযোগ না দেওয়ায় অর্থনৈতিক স্থবিরতা আরও বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ মেয়াদের মধ্যে পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার মোট ৬.৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যের হারের দিক থেকে পাকিস্তান দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ দ্বিগুণ, বাতিল হতে বসেছে ১০ টাকার নোট
পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর (PBS) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সে দেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমানে ৬ জনের একটি সাধারণ পরিবার খাদ্য ও বাসস্থানের পেছনে প্রতিদিন গড়ে ৯ ডলার খরচ করে—অর্থাৎ মাথাপিছু দৈনিক খরচ দাঁড়ায় ১.৫০ ডলার, যা আগে ছিল মাত্র ১ ডলার।

ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি ও আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতির কারণে সে দেশে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। ১০ টাকার নিচে আজকাল প্রায় কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসই কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ টাকার কাগজী নোট তুলে দিয়ে সেটিকে ধাতব মুদ্রায় (Coin) রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *