পা বাঁধা অবস্থায় অ্যাপ ক্যাব থেকে দেহ উদ্ধার ব্যক্তির, ঘটনায় ছড়ালো চাঞ্চল্য

ব্যস্ত শহরের রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বন্ধ ক্যাবের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো এক ব্যক্তির অচৈতন্য দেহ! বুধবার সকালে কলকাতার ট্যাংরা এলাকার ২৫ নম্বর ডি সি দে রোডের পিলখানায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি পেশায় একজন ক্যাব চালক। তাঁর পা দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট খুনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গাড়ির লক ভেঙে চালককে উদ্ধার

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সকালে এন্টালি থানায় খবর আসে যে পিলখানা এলাকায় স্থানীয় একটি বন্ধ বিলাসবহুল ক্যাব দীর্ঘক্ষণ ধরে ভেতরে লক করা অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এন্টালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গাড়িটি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ তালাবন্ধ থাকায় স্থানীয় এক মেকানিকের সাহায্যে মেকানিকাল লক ভেঙে দরজা খোলা হয়।

গাড়ির পেছনের সিটের নিচের ফাঁকা জায়গায় ওই চালক অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। উদ্ধারের সময় তাঁর নাড়ির কোনো স্পন্দন পাওয়া যায়নি এবং শরীরের নিচের অংশ অর্থাৎ দুই পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পুলিশ পুরো বিষয়টি নিখুঁতভাবে ভিডিওগ্রাফি করে রেখেছে।

হোমিসাইড স্কোয়াড ও সায়েন্টিফিক উইং ঘটনাস্থলে

খুনের আশঙ্কা জোরদার হতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড স্কোয়াড, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের (DD) বিশেষ আধিকারিকরা এবং সায়েন্টিফিক উইংয়ের টিম। তাঁরা গাড়ির ভেতর ও আশপাশ থেকে একাধিক নমুনাসংগ্রহ করেছেন। চালকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্য কোথাও খুন করে গাড়ি এনে রাখা হয়েছে?

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জোরালো অনুমান, চালককে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। তবে ট্যাংরার ডি সি দে রোডেই অপরাধ ঘটেছে, নাকি অন্য কোথাও শ্বাসরোধ করে বা আঘাত করে খুন করার পর দেহটি এই জনবহুল এলাকায় গাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে—তা নিয়ে বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে কারো সাম্প্রতিক শত্রুতা বা বচসা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ক্যাবটি শেষ কোথায় রাইড দিয়েছিল এবং কোন্ রুট ধরে এই রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিল, তা ট্র্যাক করতে এলাকার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ভরদুপুরে এমন রোমহর্ষক ঘটনায় পিলখানা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *