১০ দিনের বেশি জ্বর থাকলেই চরম বিপদ! ডেঙ্গি নিয়ে রাজ্যবাসীকে কড়া সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যজুড়ে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন করে বড়সড় সতর্কবার্তা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর।

স্বাস্থ্য দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ, ডেঙ্গি পজ়িটিভ হওয়ার পর ১০ দিন পার হয়ে গেলেও যদি জ্বর না কমে, তবে কেবল ডেঙ্গির চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। রোগীর শরীরে অন্য কোনো জটিল সহ-সংক্রমণ (Co-infection) ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা অবিলম্বে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

দীর্ঘস্থায়ী জ্বর মানেই ডেঙ্গি নয়, খতিয়ে দেখতে হবে এই রোগগুলি!
স্বাস্থ্য দফতরের নতুন অ্যাডভাইজরি অনুযায়ী, ১০ দিনের বেশি সময় ধরে জ্বর চলতে থাকলে একাধিক গুরুতর ব্যাধির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

এন্টারিক ফিভার ও ম্যালেরিয়া

স্ক্রাব টাইফাস ও লেপ্টোস্পাইরোসিস

ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)

হাসপাতাল-অর্জিত সংক্রমণ (Hospital Acquired Infection): বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়াও, এতদিন ধরে জ্বর থাকলে বিরল অথচ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ HLH (Hemophagocytic Lymphohistiocytosis) রোগের সম্ভাবনাও চিকিৎসকদের মাথায় রাখতে বলা হয়েছে। রোগীর শারীরিক রিপোর্ট দেখে দ্রুত চূড়ান্ত চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ৩ দিনের নজরদারি ও ‘বিপদসংকেত’
শুধু পরের দিকে নয়, ডেঙ্গি শনাক্ত হওয়ার প্রথম ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই রোগীদের স্বাস্থ্যের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। শুরু থেকেই কোনো ‘বিপদসংকেত’ (Warning Signs) বা পূর্বের মারাত্মক শারীরিক সমস্যা (কোমর্বিডিটি) রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

চিকিৎসকদের মতে, কেবল জ্বরের পারদ দেখাটাই যথেষ্ট নয়। রোগীর শরীরে জটিলতা দেখা দিলে বা বিপজ্জনক কোনো লক্ষণ দেখা গেলেই আর দেরি না করে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। রোগী এবং তাঁদের পরিবারকেও এই বিপদসংকেতগুলি সম্পর্কে আগাম সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উৎসবের মরশুমে ডেঙ্গি রুখতে স্বাস্থ্য ভবনে মেগা বৈঠক
আসন্ন দুর্গাপুজো, কালীপুজোসহ টানা উৎসবের মরশুমে যাতে মশা বা মশাবাহিত রোগের প্রকোপে কোনো ঢিলেঢালা ভাব না আসে, তা নিশ্চিত করতে বুধবার বিকেল ৪টেয় স্বাস্থ্য ভবনে বসছে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে জেলাশাসক, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপার, সমস্ত জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ছাড়াও পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকরা অংশ নেবেন।

কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, দুর্গাপুর, আসানসোল এবং কলকাতা লাগোয়া দমদম, কামারহাটি ও পানিহাটি পুরসভার প্রশাসকদেরও এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পুজোয় ডেঙ্গি সংক্রমণ আর না ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *