“জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতে হবে!” যন্তর মন্তরে তরুণদের মেগা আন্দোলনের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জালিয়াতি, ‘ভোট চুরি’ এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এবার রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তরে এই আন্দোলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
ইতিমধ্যেই কর্মসূচির অনুমতি ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য সিজিপির তরফে দিল্লি পুলিশের কাছে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস নিজে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে লিখিত চিঠি হস্তান্তর করেন। তিনি জানান, ১০ অক্টোবর দেশের যুবসমাজ ও সিজিপি কর্মী-সমর্থকেরা একযোগে যন্তরমন্তরে সমবেত হবেন এবং এই আন্দোলনের পুরোভাগে থাকবে দেশের তরুণ প্রজন্ম।
“জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারি চাই”: বিস্ফোরক সৌরভ দাস
দিল্লিতে এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক সম্মেলনে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে সিজিপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও আমরা আন্দোলন থেকে মাথা নত করব না। নির্বাচন কমিশনে আমাদের মূল দাবি কাঠামোগত আমূল সংস্কার। যতক্ষণ না সেই সংস্কার হচ্ছে, ততক্ষণ নির্বাচন কমিশন কোনোদিন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে না।”
কমিশনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে জ্ঞানেশ কুমার শুধু পদত্যাগই না করেন, বরং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়। আমরা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত রাখা এবং সেই সময় নেওয়া সমস্ত বেআইনি সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। সরকার যেন নিশ্চিত করে কুমারের মতো ব্যক্তিরা যেন ভবিষ্যতে কোনোদিনই এমন সাংবিধানিক শীর্ষ পদে না বসতে পারেন। তা না হলে আমরা কোনো অবস্থাতেই পিছু হটব না।”
নিশানায় ‘ভোট চুরি’ ও ‘জেন জি’ (Gen Z)-দের ক্ষোভ
দলের মুখপাত্র জোর দিয়ে জানান, এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি মূলত তরুণ প্রজন্মের গভীর উদ্বেগ ও তাঁদের ভবিষ্যৎ রক্ষার তাগিদ থেকে আয়োজিত হতে চলেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে তরুণরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে বলে দাবি করেন তিনি।
সৌরভ দাসের অভিযোগ, দেশের লাখ লাখ ‘জেনারেশন জেড’ (Gen Z) বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চরম ব্যর্থ হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সেই সাথে ‘ভোট চুরি’ এবং ‘নির্বাচন হাইজ্যাকিং’-এর মতো আশঙ্কাজনক বিষয়গুলি দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দেশবাসীকে দীর্ঘ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি চাই সবাই প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসুন। এটি দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই হতে চলেছে।”