মধ্যাহ্নভোজের আড়ালে মেগা প্ল্যান! ২৪০ জন বিরোধী সাংসদকে নিয়ে দিল্লিতে রাহুল-খাড়গের বিরাট চাল

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (CEC) বিরুদ্ধে ‘ভোটচুরি’ ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে জাতীয় রাজধানীতে চরম মোমেনটাম তৈরি করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’ (INDIA Alliance)। নজিরবিহীন সেই রাজনৈতিক উত্তাপ ও আন্দোলনের আবহ কোনোভাবেই হালকা হতে দিতে রাজি নয় বিরোধী শিবির। নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে এবার অভিনব কৌশল নিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বুধবার দিল্লির জনপথের এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় ইন্ডি জোটের সাংসদদের নিয়ে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সূত্রের খবর, শুধুই সৌজন্যমূলক ভোজ নয়, এই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি এবং কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের আইনি ছক।
মধ্যাহ্নভোজে মেগা স্বাক্ষর অভিযান
মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে বিরোধী সাংসদদের এক বিশাল পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয় দিল্লি। বিরোধীদের দাবি, ইন্ডি জোটের মোট ২৪০ জন সাংসদ একযোগে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অভিযোগ জানাতে চান।
বুধবারের এই মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ আবেদনপত্রে উপস্থিত সমস্ত সাংসদের স্বাক্ষর নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র এবং সামিরুল ইসলামের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব।
প্রোটোকল বনাম বিরোধী জোটের অটল অবস্থান
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, প্রশাসনিক প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত ও সুনির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের সঙ্গেই কেবল কমিশন আলোচনায় বসতে পারে। ২৪০ জন সাংসদের বহর নিয়ে একযোগে দেখা করা সম্ভব নয়।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই প্রোটোকলের যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধী নেতৃত্ব। রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে এই স্বাক্ষর অভিযানের পর ইন্ডি জোট পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দিল্লি রাজনীতির জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।