কাশ্মীর থেকে ফিরতেই লোহাগঞ্জে ধৃত ২৫ বাংলাদেশি! ব্যাগ খুলতেই বেরোল ভারতীয় ভোটার ও আধার কার্ড

সীমান্তবর্তী গ্রামে ভোরবেলা আচমকা একসঙ্গে ২৫ জন অচেনা মানুষকে দেখতে পেয়ে চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। প্রশ্ন করতেই বেরিয়ে এলো আসল সত্য—তাঁরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক! ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি থানার অন্তর্গত লোহাগঞ্জের পঞ্চানগর এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF)। বিএসএফ জওয়ানরা ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের পাশাপাশি তাঁদের ভারতে অনুপ্রবেশ ও যাতায়াতে সাহায্য করার অভিযোগে এক ভারতীয় যুবককেও আটক করে। পরবর্তীতে তাঁদের কুশমণ্ডি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বুধবার পুলিশ ধৃতদের বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করেছে।
ভোর সাড়ে চারটেয় সীমান্তে সন্দেহজনক যাতায়াত
গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) শুভতোষ সরকার জানিয়েছেন, “কুশমণ্ডি ব্লকের গোবরা বিল সীমান্ত সংলগ্ন লোহাগঞ্জ পঞ্চানগর গ্রামে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিএসএফ আটক করেছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে তাঁদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবৈধভাবে বাংলাদেশে সীমান্ত পার করার চেষ্টার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকরা মূলত কাজের তাগিদে ভারতের কাশ্মীরে গিয়েছিলেন। তবে ভারতে প্রবেশের কোনো বৈধ নথিপত্র তাঁদের কাছে ছিল না বলে দাবি স্থানীয়দের। কাজ শেষে অবৈধভাবে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁরা সীমান্ত লাগোয়া কুশমণ্ডির পঞ্চনগর এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন।
দালাল চক্রের পর্দাফাঁস ও স্থানীয়দের তৎপরতা
অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশে নিরাপদে পার করার জন্য গঙ্গারামপুরের কাজলতোর এলাকার বাসিন্দা বাবলু রায় নামে এক ভারতীয় দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন ওই অনুপ্রবেশকারীরা। বাবলু রায়ের মাধ্যমেই তাঁরা ভোরে পঞ্চানগরে এসে জড়ো হন।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ স্থানীয় গ্রামবাসীরা মাঠের মধ্য দিয়ে একদল অপরিচিত লোককে সীমান্তের দিকে যেতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। গ্রামবাসীরা তাড়া করে বাবলু রায়কে ধরে ফেলেন। এর পরপরই পুরো বিষয়টি বিএসএফকে জানানো হয় এবং বিএসএফ জওয়ানরা এসে সবাইকে হেফাজতে নেয়। ধৃতদের মধ্যে এক বাংলাদেশি নাগরিক স্বীকার করেছেন, “আমরা কাজ করতে কাশ্মীরে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে কাজ শেষ করে সবাই বাংলাদেশে নিজেদের বাড়ি ফিরছিলাম।”
ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধারের অভিযোগ
ঘটনায় বিএসএফ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কুশমণ্ডির বিজেপি বিধায়ক তাপসচন্দ্র রায় জানান, “ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ২৬ জন যুবককে মাঠে সীমান্তের দিকে যেতে দেখে স্থানীয়রা একজনকে ধরে ফেলে, যে মূল ভারতীয় দালাল। বাকী ২৫ জন বাংলাদেশি স্বীকার করেছে তাঁরা কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়েছিল। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, তাঁদের কাছ থেকে ভারতীয় ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে কী রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে বিএসএফ ও পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।