১,০১৬ হর্সপাওয়ারের ঝোড়ো গতি! বাজারে এল জ্যাগুয়ারের সবথেকে শক্তিশালী সুপারকার টাইপ ০১

বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা জ্যাগুয়ার (Jaguar) এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। ব্রিটিশ এই আইকনিক ব্র্যান্ডটি তাদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজাইনের অধীনে নিয়ে এল প্রথম অল-ইলেকট্রিক প্রডাকশন মডেল ‘জ্যাগুয়ার টাইপ ০১’ (Jaguar Type 01)। ৪ সিটের এই ইলেকট্রিক গ্র্যান্ড ট্যুরারটি (Electric GT) এযাবৎকালের জ্যাগুয়ারের ইতিহাসেও সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির গাড়ি হতে চলেছে।
স্পোর্টস কারের পারফর্ম্যান্স এবং রাজকীয় আরামের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে এই গাড়িতে। পারফর্ম্যান্স-ফোকাসড চ্যাসিস, ট্রাই-মোটর (তিনটি পাওয়ারফুল মোটর) এবং আধুনিক অ্যাক্টিভ অ্যারোডাইনামিক্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি জ্যাগুয়ারের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেলটি তাদের ইলেকট্রিক ভবিষতের এক বড় মাইলফলক। (সূত্র: জ্যাগুয়ার অফিশিয়াল রিভিল)
১,০১৬ বিএইচপি পাওয়ার এবং অবিশ্বাস্য গতিবিধি
জ্যাগুয়ার টাইপ ০১ গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি শক্তিশালী ইলেকট্রিক মোটর—যার একটি যুক্ত থাকবে সামনের এক্সেলের সাথে এবং বাকি দুটি পেছনের চাকা সচল রাখবে।
সর্বোচ্চ ক্ষমতা: গাড়িটি ১,০১৬ হর্সপাওয়ার (hp) শক্তি এবং ১৩৬৫ নিউটন মিটার (Nm) টর্ক তৈরি করতে সক্ষম।
পিক-আপ ও স্পিড: মাত্র ৩.২ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতি স্পর্শ করতে পারে এটি। গাড়িটিতে চমৎকার ৫০:৫০ ওয়েট ব্যালেন্স রাখা হয়েছে।
ব্যাটারি ও রেঞ্জ: গাড়িটিতে রয়েছে ১১৮.০ kWh ব্যাটারি এবং ৮৫০ ভোল্টের ইলেকট্রিক আর্কিটেকচার। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে WLTP নিয়মানুযায়ী গাড়িটি প্রায় ৭২৪ কিলোমিটার (৪৫০ মাইল) পর্যন্ত ছুটবে। এমনকি হাইওয়েতে উচ্চ গতিতেও এটি অনায়াসে প্রায় ৫১৫ কিলোমিটারের রেঞ্জ দিতে সক্ষম।
চ্যাসিস ও স্মার্ট ড্রাইভিং মোড
গাড়ির রাইড কোয়ালিটি ও ড্রাইভিং এক্সপেরিয়েন্সকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে এতে দেওয়া হয়েছে ডায়নামিক এয়ার সাসপেনশন (Dynamic Air Suspension)। সেই সঙ্গে রয়েছে ৫টি আলাদা ড্রাইভিং মোড—
১. Jaguar
২. Dynamic
৩. Efficient
৪. Ice & Snow
৫. Curated
গাড়িটির ‘ডায়নামিক মোড’-এ ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়ার ব্যাক এক্সেলে চলে যায়, যার ফলে হাই-স্পিডেও স্টিয়ারিং ও এক্সিলারেটর থেকে অবিশ্বাস্য রেসপন্স পাওয়া যায়। গাড়িটি ১৭.২ ফুট (প্রায় ৫.২৪ মিটার) লম্বা হওয়া সত্ত্বেও এর অল-উইল স্টিয়ারিং (All-Wheel Steering)-এর কারণে সহজেই সরু রাস্তায় ইউ-টার্ন নেওয়া সম্ভব।
আধুনিক অ্যারোডাইনামিক্স প্রযুক্তি
বাতাসের বাধা কাটিয়ে গতি বজায় রাখার জন্য এই গাড়িতে স্পেশাল অ্যাক্টিভ ফ্রন্ট ভেন দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ইঞ্জিন ও ব্রেক ঠান্ডা করতে নিজে থেকেই খুলে যায়।
গাড়ির পেছনে থাকা বিশেষ ৩-স্টেজ স্পয়লার ঘণ্টায় ১৫৫ কিমি গতি পার করলে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ৭৫ কেজি পর্যন্ত ‘ডাউনফোর্স’ তৈরি করে। এই সময়ে এয়ার ডাইনামিক্স বজায় রাখতে গাড়ির বডি নিজে থেকেই ১৫ মিমি নিচে নেমে আসে।
রাজকীয় ডিজাইন ও পাতলা হেডলাইট
জ্যাগুয়ার টাইপ ০১-এর বহিরাবরণ কনসেপ্ট কারের মতোই চোখধাঁধানো রাখা হয়েছে। গাড়ির উচ্চতা মাত্র ১.৪০ মিটার।
ফ্লাশ ডোর হ্যান্ডেল: বরফ জমার মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ৪ মিমি বরফ ঠেলে দরজার হ্যান্ডেল বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
পাতলা হেডল্যাম্প: এতে ব্যবহার করা হয়েছে জ্যাগুয়ারের ইতিহাসের সবচেয়ে পাতলা (মাত্র ৮৪ মিমি) এইচডি এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প। প্রতিটি হেডল্যাম্পে প্রায় ২০,০০০ টি এলইডি (LED) লাইট রয়েছে।
হুইল ও লোগো: এতে স্ট্যান্ডার্ড ২৪-ইঞ্চি ও বিকল্প হিসেবে ২১-ইঞ্চির বিশাল অ্যালয় হুইল রয়েছে। সেই সঙ্গে ফেন্ডারে লেজার-কাটিং লাফানো চিতার (Leaping-Cat) আইকনিক লোগো খোদাই করা রয়েছে।
মিনিমালিস্টিক ড্যাশবোর্ড ও বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র
গাড়ির ভেতরের ডিজাইন অত্যন্ত ছিমছাম অথচ আধুনিক প্রযুক্তিতে ঠাসা।
মেগা ডিসপ্লে: ড্যাশবোর্ডে স্টিয়ারিং চাকার ঠিক পেছনে রয়েছে বিশাল ২৪.০ ইঞ্চির OLED ডিসপ্লে এবং মিডিয়া ও এসি নিয়ন্ত্রণের জন্য দেওয়া হয়েছে আলাদা ৭.০ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন।
ক্লিয়ারসাইট রিয়ার ভিউ (ClearSight Rear View): এই গাড়িতে পুরনো আমলের পেছনের কাঁচ দেখার লুকিং গ্লাস বা মিরর নেই। তার বদলে গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের নিচে প্যানোরামিক সাউন্ডবারের সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাক-ক্যামেরা স্ক্রিন যুক্ত করা হয়েছে।
আরামদায়ক সিট ও বুট স্পেস: ৪টি আসনেই হিটিং ও ভেন্টিলেশনের সুবিধা রয়েছে। পেছনের সিটগুলি ৫০:৫০ অনুপাতে ফোল্ড করা যায়, যার ফলে সাধারণ ৪৫০ লিটারের ট্রাঙ্ক স্পেস বাড়িয়ে ৯৯৯ লিটার পর্যন্ত করা সম্ভব।
১,০১৬ হর্সপাওয়ার, অত্যাধুনিক অল-উইল ড্রাইভ ও ফিউচারিস্টিক ডিজাইনের সৌজন্যে এটি কেবল আরেকটি নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি নয়, বরং অটোমোবাইল বিশ্বে জ্যাগুয়ারের নতুন ইলেকট্রিক সিংহাসন দখলের এক স্পষ্ট হুঙ্কার!