স্বামীর রহস্যমৃত্যুকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ বলে চালানোর চেষ্টা! একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই ফাঁস স্ত্রীর ভয়ঙ্কর পরকীয়া

প্রেমিকের হাত ধরে স্বামীকে মর্মান্তিকভাবে খুন করে তা সহজ ‘হার্ট অ্যাটাক’ বা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর চক্রান্ত নস্যাৎ হলো। শেষ রক্ষা হলো না পাষণ্ড স্ত্রীর। মৃত স্বামীর লুকিয়ে রাখা মোবাইল ফোনের একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট (WhatsApp Chat)-এর সূত্র ধরেই অবশেষে ফাঁস হয়ে গেল পুরো রোমহর্ষক ঘটনাটি। সামনে এলো সম্পর্কের চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও নৃশংস অপরাধের সত্য।

চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকায়।

সাজানো হয়েছিল ‘হার্ট অ্যাটাক’-এর গল্প
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃত যুবকের নাম তালিব (৩০)। পেশায় বিউটিশিয়ান ২৭ বছর বয়সি স্ত্রী ইলমার সঙ্গে চার বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের তিন বছরের একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আচমকাই তালিবের মৃত্যুর খবর পান তাঁর বাড়ির লোক।

ঘটনার দিন ইলমা নিজের দাদা আক্রমকে ফোন করে অত্যন্ত কান্নাকাটি করে জানায়, অফিস থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পর আচমকা চরম অসুস্থ বোধ করেন তালিব। বিছানায় শুয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হূদরোগে আক্রান্ত হয়েই এই আকস্মিক মৃত্যু—ইলমার এই সাজানো কথায় তখন বিশ্বাস করে নেয় তালিবের পরিবার। স্বাভাবিক মৃত্যু ধরে নিয়ে কোনো পুলিশি ঝামেলা ছাড়াই ধর্মীয় আচার মেনে যুবকের দেহ সমাহিত বা দাফন করা হয়।

জামাকাপড়ের খাঁজে লুকিয়ে রাখা ফোন ও এক সন্দেহ!
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু দাফনের কয়েকদিন যেতে না যেতেই পরিবারের সদস্যদের মনে ইলমার আচরণ নিয়ে নানা সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১ অক্টোবর, যখন তালিবের খুড়তুতো ভাই রইস ইলমার বাড়িতে যান।

বাড়িতে তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর তালিবের জামাকাপড়ের খাঁজের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি, যা এতদিন ইলমা ইচ্ছা করেই লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। রইস ফোনটি আনলক করে ঘেঁটতেই চোখ কপালে ওঠে পরিবারের। দেখা যায়, ‘আমন’ নামের এক যুবকের সঙ্গে ইলমাকে কথা বলতে কঠোরভাবে বারণ করেছিলেন তালিব। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল।

চেপে ধরতেই বেরিয়ে এলো ভয়ঙ্কর সত্যি
হোয়াটসঅ্যাপের সেই সন্দেহজনক চ্যাট সামনে আসতেই তালিবের পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে ইলমাকে চেপে ধরেন এবং কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আর তাতেই ভেঙে পড়ে পুরো সত্য অকপটে স্বীকার করে নেন বিউটিশিয়ান ইলমা।

ইলমার দাবি, তালিব প্রায়শই তাঁকে মারধর করতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বরও একই ঘটনা ঘটলে সে চরম ক্ষোভে তার প্রেমিক আমনকে ফোন করে ডেকে পাঠায়। আমন নিজের এক সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে সোজা ইলমার বাড়িতে উপস্থিত হয়। এরপর তিনজনে মিলে তালিবের ওপর চড়াও হয়ে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে প্রেমিক আমন গামছা বা দড়ি দিয়ে তালিবের গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে চিরতরে শেষ করে দেয়। পুলিশকে ইলমা আরও জানায়, স্বামীকে সরিয়ে দিলে তাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রেমিক আমন।

কবর থেকে তোলা হচ্ছে দেহ, তদন্তে পুলিশ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই মিরাটজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই ও আইনি প্রমাণ নিশ্চিত করতে আদালতের অনুমতি নিয়ে তালিবের দেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের (Autopsy) ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে অভিযুক্ত স্ত্রী ইলমাকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেন্সিক তথ্য হাতে পেলেই মূল অভিযুক্ত প্রেমিক আমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *