“সাহস থাকলে সংসদে পাস করিয়ে দেখাক!” মোদী সরকারের বিরুদ্ধে চরম তোপ জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর

দেশের জাতীয় ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে একতরফা ও ঢালাও নাম ছাঁটাইয়ের অভিযোগে রীতিমতো উত্তাল দেশের রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) এই বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারি ও জবাবদিহি চাওয়ার সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন ও স্বাগত জানালেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা (Omar Abdullah)। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, নিরপেক্ষ তদন্ত ও শীর্ষ আদালতের আইনি হস্তক্ষেপে কতটা ভুল শুধরে নেওয়া সম্ভব হয়, এখন সমগ্র দেশ সেদিকেই চেয়ে রয়েছে।

এর পাশাপাশি, কেন্দ্রের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (Uniform Civil Code) ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান কাশ্মীরের এই শীর্ষ নেতা।

নির্বাচন কমিশনের অস্বচ্ছতা ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ
নয়াদিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠকের উল্লেখ করে ওমর আবদুল্লা জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে চলতি মাসের জন্য এক যৌথ প্রতিবাদী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা মাফিক বিরোধী জোটের একাধিক সাংসদ নির্বাচন কমিশন অভিমুখে এক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওমর আবদুল্লা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কমিশনের এই কাজের ধরন ও একের পর এক অনিয়ম নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরব হয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তখন খুব কম মানুষই আমাদের কথায় কান দিয়েছিলেন। আজ কিন্তু দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছে।”

তবে বর্তমানে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সবকিছুর মধ্যেও সবচেয়ে বড় আশার আলো হলো সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। যেভাবে কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড ছাড়া গণহারে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে শীর্ষ আদালত এখন সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এই মারাত্মক ভুল কতটা শুধরে যায়, আমরা সবাই সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।”

“বিজেপির সাহস থাকলে সংসদে বিল এনে দেখাক!”
ভোটার তালিকা কেলেঙ্কারির পাশাপাশি বিজেপির বহুচর্চিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউসিসি লাগু করার কঠোর বিরোধিতা করেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, যতক্ষণ না দেশের প্রতিটি নাগরিক ও রাজ্য সর্বসম্মতভাবে এটি মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত একে কোনোভাবেই ‘অভিন্ন’ বা ‘ইউনিফর্ম’ বলা চলে না।

ইউসিসি রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ওমর সোজা ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমরা জম্মু ও কাশ্মীরে কোনো অবস্থাতেই ইউসিসি চালু হতে দেব না। এমনকি বিহারে বিজেপির জোটসঙ্গী নীতীশ কুমারের দলও জানিয়ে দিয়েছে যে তারা নিজেদের রাজ্যে এটি লাগু করতে দেবে না। আরও একাধিক অ-বিজেপি রাজ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইউসিসি তাদের রাজ্যে কার্যকর হবে না। শুধুমাত্র বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি একতরফাভাবে জোর করে এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

কেন্দ্রের ক্ষমতার সমীকরণ মনে করিয়ে দিয়ে বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ওমর আবদুল্লা বলেন, “বিজেপির যদি সত্যিই রাজনৈতিক সাহস থাকে, তবে এই সংক্রান্ত বিলটি একতরফাভাবে না চাপিয়ে পার্লামেন্টে নিয়ে আসুক! সেখানে সব দলের উপস্থিতিতে বিস্তারিত বিতর্ক হোক, তারপর দেখা যাবে সংসদে এই বিল পাস হয় কি না। কিন্তু বিজেপি ভালো করেই জানে—লোকসভা বা রাজ্যসভা, কোথাও এই বিতর্কিত বিল পাস করানোর মতো পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের নেই। সেই কারণেই তারা ঘোরানো পথে নিজেদের শাসিত রাজ্যগুলিতে এক এক করে এটি বলবৎ করছে, যা সম্পূর্ণরূপে অসদুপায় ও অন্যায়।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *