“ইলন মাস্ক আমার ভাই ভাবলে আনন্দ তো মিলবেই, কিন্তু বাস্তব বদলায়?” ধর্ম ও নাস্তিকতা নিয়ে বিস্ফোরক জাভেদ আখতার!

সিনেমার চিত্রনাট্য হোক কিংবা কালজয়ী গানের সুর—প্রচলিত ধ্যানধারণা ও অন্ধবিশ্বাসকে বারবার নিজের ধারালো লেখায় প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়াই তাঁর আজীবনের স্বভাব। শুধুমাত্র রূপালী পর্দা বা সাহিত্যের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর এই স্পষ্টবাদিতা। এবার ধর্ম, নাস্তিকতা এবং ঈশ্বরবিশ্বাস নিয়ে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সমাজকে নতুন ভাবনার আয়নায় দাঁড় করালেন ভারতের জনপ্রিয় প্রবীণ গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও কবি জাভেদ আখতার।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি সিনেমার একাধিক স্মরণীয় গল্প, কালজয়ী সংলাপ ও কালজয়ী গানের এই প্রবীণ কারিগর এবার নিজের নাস্তিকতা ও যুক্তিবাদের পক্ষে তুলে ধরলেন চাঁচাছোলা সব যুক্তি।
“মনকে দেওয়া সান্ত্বনা কি সত্যের প্রমাণ?”
সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার অকপটে স্বীকার করে নেন যে, জীবনের চরম সংকট বা কঠিন সময়ে ধর্ম মানুষের মনকে একধরনের সান্ত্বনা ও মানসিক শান্তি জোগায়। তবে তার পর মুহূর্তেই তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই মানসিক শান্তি পাওয়াটাই কি কোনো বিশ্বাসের সত্যতার প্রমাণ হতে পারে?”
তাঁর মতে, এই মানসিক নির্ভরতার ভিতটা আসলে কৃত্রিম। মানুষ কেবল এক অদৃশ্য চালিকাশক্তির আশ্বাস পেতে এবং চরম বিপদেও মাথার ওপর একজন অভিভাবক আছেন—এমন একটি অমূল ভাবনা আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে পছন্দ করে।
ইলন মাস্কের উদাহরণে মোক্ষম খোঁচা
নিজের এই যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের নাম টেনে আনেন প্রবীণ এই শিল্পী। এক জোরালো ও রসাত্মক উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ধরুন কেউ যদি নিজেকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করায় যে ইলন মাস্ক তার নিজের ভাই এবং আগামী মাসে সে তাকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাঠাবে—তাহলে তো সেই মানুষটা সারা জীবন চরম আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারবে! সে হয়তো প্রতি মাসে ভাববে, ‘পরের মাসেই তো টাকা আসছে!’ এবং নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাববে। কিন্তু এতে বাস্তবটা কতটা সত্যি হয়ে যায়?”
শৈশব থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার বনাম স্বাধীন যুক্তি
ধর্ম কি আদৌ মানুষের নিজস্ব ও সচেতন সিদ্ধান্ত? এ বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন চিত্রনাট্যকার। তাঁর দাবি, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ যে ধর্মে জন্মগ্রহণ করে, সারাজীবন কোনো প্রশ্ন না তুলে সেই ধর্মকেই আঁকড়ে ধরে রেখে মারা যায়। মানুষ নিজের স্বাধীন বুদ্ধিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, স্রেফ শৈশব থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অন্ধ বিশ্বাসকে মেনে চলে।
ধর্মবিশ্বাসী বনাম যুক্তিবাদী: মূল পার্থক্য কোথায়?
ধর্মবিশ্বাসী এবং যুক্তিবাদীদের মধ্যে দর্শনের মৌলিক পার্থক্যের জায়গাটিও অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন জাভেদ আখতার। তিনি বলেন, “যুক্তিবাদীদের লড়াইটা সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা কোনো ব্যক্তিকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না, আমরা বিশ্বাস করি যুক্তি, ধারণা ও প্রমানকে। কারণ আজ যে মানুষটি একটি কথা বলছেন, কাল তিনি মত বদলাতেই পারেন। কিন্তু যারা ধর্মবিশ্বাসী, তারা একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সত্ত্বাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে—হতে পারেন তিনি তাঁদের পিতা-মাতা, কিংবা কোনো ধর্মগুরু। বিশ্বে ১০টি প্রধান ধর্ম রয়েছে। আর যারা বলে ‘সব ধর্ম আসলে একই’, তারা চরম ভুল বলে। বাস্তবে প্রতিটি ধর্মই একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”