“কীভাবে রান্নাঘরের ছুরি ও লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে ৩ জনকে মারা যায়?” AI-র পরামর্শেই বেঙ্গালুরুতে ভয়াবহ গণহত্যাকাণ্ড!

বেঙ্গালুরুর কৃষ্ণরাজাপুরের সিগেহাল্লির সেই আলোচিত ও নৃশংস ট্রিপল মার্ডার কেসে (Triple Murder Case) উন্মোচিত হলো এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন তথ্য। লিভ-ইন সঙ্গীর বাবা, মা ও বোনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের দায়ে আগেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ২৫ বছর বয়সী নামী সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী জে কেনেথকে। তবে এই নরসংহারের আগে অভিযুক্ত যুবক কীভাবে নিখুঁত ছক কষেছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত চালাতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের।
ল্যাপটপ ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence – AI)-কে কাজে লাগিয়েই এই পুরো হত্যাকাণ্ডের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন ওই আইটি কর্মী!
এআই (AI)-এর কাছে ঠিক কী কী সার্চ করেছিলেন অভিযুক্ত?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুন মাসে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কেনেথ খুনের দিনকয়েক আগে থেকে এআই চ্যাটবটকে একের পর এক অদ্ভুত ও বিপজ্জনক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন।
অভিযুক্তের ল্যাপটপের সার্চ হিস্ট্রি ঘেঁটে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন:
ছুরি দিয়ে একসঙ্গে একাধিক আক্রমণ: কীভাবে রান্নাঘরের অতি সাধারণ একটি ছুরি ব্যবহার করে একই সাথে তিনজন মানুষের ওপর হঠাৎ প্রাণঘাতী হামলা চালানো যায়?
দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করার কৌশল: লঙ্কার গুঁড়ো, ভিনিগার এবং কাঁচা লঙ্কার পেস্ট চোখে ছিটিয়ে কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে ভিকটিমদের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি অন্ধ ও অকেজো করে দেওয়া সম্ভব?
শারীরিক প্রতিরোধ পঙ্গু করা: কীভাবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একসাথে তিনজন মানুষের হাঁটু ভেঙে দিয়ে তাঁদের পালানোর পথ বন্ধ করা যায়?
আইনি অলিগলি: কোনো নির্জন এলাকায় কোনো বাড়িতে তিনজন চোর ঢুকলে আত্মরক্ষার খাতিরে তাঁদের কীভাবে কাবু করতে হয় বা ফাঁদে ফেলতে হয়?
এ ছাড়াও, হত্যাকাণ্ডে আর কী কী ঘরোয়া ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের পাওনাদারদের ফোন কীভাবে সামলাতে হয়, সে বিষয়েও এআই-এর কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছিলেন ওই পেশাদার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
নেপথ্যে ৫৬ লক্ষ টাকার ঋণের ভয়াল ছায়া
কেন নিজের লিভ-ইন পার্টনার শ্বেতার পরিবারকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন কেনেথ? পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে বিপুল অর্থ ও ঋণের দেনার গল্প। শ্বেতা নিজেও একজন পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। তবে কেনেথের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ও আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে শ্বেতা মাত্র এক বছরের মধ্যে নিজের নামে প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকার বিশাল ঋণ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া পার্সোনাল লোন, বিজনেস লোন এবং বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের কাছ থেকে ধার নেওয়া মোটা অঙ্কের টাকা।
পরবর্তীতে শ্বেতার বাবা-মা ও বোন এই বিপুল অঙ্কের দেনার কথা জানতে পারায় দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি চরম রূপ নেয়। প্রতিনিয়ত টাকা ফেরত চাওয়া এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে কেনেথ পুরো পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
প্রেমিকাকে সাথে নিয়েই নৃশংস হত্যাকাণ্ড
গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে ঢুকে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর, মা মুত্তুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়াকে কুপিয়ে খুন করেন কেনেথ। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ, কেনেথকে এই নৃশংস হামলায় প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছিলেন শ্বেতা নিজেও। ঘটনার পর দু’জনেই পালিয়ে তামিলনাড়ুতে আশ্রয় নিলেও কর্ণাটক পুলিশের বিশেষ দল তদন্ত চালিয়ে তামিলনাড়ু থেকেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। ল্যাপটপ থেকে পাওয়া এই হাড়হিম করা ডিজিটাল প্রমাণ সামনে আসার পর মামলাটি এখন আইনি ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় নিয়েছে।