“ভোটের আগেই জয়ের গন্ধ পাচ্ছি!” রেজিনগরে ১ লাখ ২০ হাজার ও নন্দীগ্রামে রেকর্ড মার্জিনের হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—রাজ্যের হাইভোল্টেজ দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শান্তিতে মিটতেই নিজের অংক ও মূল্যায়ন প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোট শেষ হতে না হতেই দুই আসনেই ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একশো শতাংশ আশাবাদী তিনি। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের ব্যবধান অতীত রেকর্ড ভেঙে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। নন্দীগ্রামে রেকর্ড ভোট ও রেজিনগরে ১ লাখ ২০ হাজারের পরিসংখ্যান! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জোরালো ভবিষ্যদ্বাণী করে জানান, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর নিজের আগের জয়ের মার্জিনের চেয়ে অন্তত ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি ভোটে জয়ী হতে চলেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস ও অন্যান্য শক্তির লড়াই সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্র নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী তিনি। তাঁর বিশ্বাস, রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার একাই ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোট পাবেন এবং ২৫-৩০ হাজারের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করবেন। অন্নপূর্ণা ও আবাসের জাদুতে মিলবে ৯০% সংখ্যালঘু ভোট? ভোটগ্রহণের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশেষ করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এবার বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘু নারী ও তরুণ ভোটার সরাসরি বিজেপির সমর্থনের পক্ষে ইভিএমে রায় দিয়েছেন।সরকারি কল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান: রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আওতায় থাকা ১ কোটি ৫৮ লক্ষ সুবিধাভোগীর মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ মুসলিম মহিলা রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হিসাব অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে এই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া অন্তত ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা ভোটার বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘আবাস যোজনা’-র সুবিধাপ্রাপ্ত সংখ্যালঘু পরিবারগুলির একটি বড় অংশও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছেন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রবীণ সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশের ভোট ভাগ হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) ঝুলিতে। “বাম ও তৃণমূলের অস্তিত্বই নেই, সিপিএম থাকবে নোটার নিচে!”বিরোধীদের সংগঠন ও ভোটের হার নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ বক্তব্য, “নন্দীগ্রামে সিপিআই আদৌ এক-দেড় হাজার ভোট পাবে কি না সন্দেহ আছে! আর রেজিনগরে তো সিপিএম ‘নোটা’ (NOTA)-র নিচে নেমে যেতে পারে। বুথে এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক পর্যন্ত ছিল না এদের। দুই কেন্দ্রেই বাম কিংবা তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গিয়েছে।” ফল প্রকাশের দিন ৯ অক্টোবর উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভোটাধিকারে অংশ নিয়েছেন। এখন সব জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু আগামী ৯ অক্টোবর, যেদিন উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হবে। তবেই পরিষ্কার হবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘রাজনৈতিক ঘ্রাণশক্তি’ এবং গণনার হিসাব বাস্তবে কতটা মিলে যায়!