চোখের জলে বিদায় ফুটবল সম্রাটের! ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্টে শেষ ম্যাচ স্মরণীয় করলেন মেসি, ভাসল বিশ্ব!

অবসান হলো এক রূপকথার সমতুল্য দীর্ঘ অধ্যায়ের। দুই দশকের দীর্ঘ ও বর্ণময় আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক ইতি টানলেন বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসি। নিজের আন্তর্জাতিক বিদায়ী ম্যাচেও স্বমহিমায় জ্বলে উঠলেন এই মহাতারকা। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে আফ্রিকান দেশ বেনিনকে ৩-০ ব্যবধানে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর শেষ দিনেও নিজের চেনা ম্যাজিক দেখিয়ে ১টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে ম্যাচটিকে অমর করে রাখলেন এলএম১০। চোখের জল ও ভালোবাসার মহাসমুদ্রবিদায়ী ম্যাচ খেলতে মাঠে নামার সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। স্টেডিয়ামের চারপাশে তখন সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় নায়ককে শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সিতে দেখতে বাঁধভাঙা উদ্দীপনা তৈরি হয়। এই কিংবদন্তিকে সম্মান জানাতে ম্যাচের ১০ম মিনিটে কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়, পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ‘এলএম১০’-কে। দ্বিতীয়ার্ধে মেসির তাণ্ডব ও তিন গোলপ্রথমার্দ্ধে বেনিনের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে আর্জেন্টিনা: ৪৮ মিনিট: মেসির নিখুঁত কর্নার কিক থেকে অসাধারণ হেডে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি (১-০)। ৬১ মিনিট: মেসির বাড়ানো চতুর পাস ধরে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নেন উদীয়মান তারকা নিকো পাস (২-০)। ৭১ মিনিট: বক্সে ফাউলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে নিজের বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখেন স্বয়ং অধিনায়ক লিওনেল মেসি (৩-০)। ২০০৫ থেকে ২০২৬: একটি আস্ত প্রজন্ম ও ঐতিহ্য২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর দীর্ঘ ২০-২১ বছরের এই যাত্রায় মেসি খেলেছেন ২০৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং করেছেন রেকর্ড ১২৫টি গোল। তাঁর হাত ধরেই আর্জেন্টিনা পৌঁছেছে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে, যার মধ্যে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্বপ্নের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি। জয়ে এসেছে দুটি কোপা আমেরিকা খেতাবও। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ থেকে বুট জোড়া তুলে রাখলেন, তবুও স্বস্তির খবর এটাই যে—ইন্টার মায়ামির গোলাপি জার্সিতে তাঁর বাঁ পায়ের সেই পরিচিত জাদু দেখতে পাবেন বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।