কনসার্টে বিতর্কিত মন্তব্য, ফের পুলিশি জালে হানি সিং! সমন এড়িয়ে চাইলেন বাড়তি সময়

বিতর্কের সাথে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফের একবার গভীর আইনি সংকট ও পুলিশি সমনের মুখে পড়লেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় র্যাপার তথা গায়ক হিরদেশ সিং—যাঁকে বিশ্বজুড়ে অনুরাগীরা চেনেন ‘ইয়ো ইয়ো হানি সিং’ নামে। সম্প্রতি একটি লাইভ কনসার্টে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে তলব করেছিল মহারাষ্ট্র সাইবার সেল। তবে নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দিয়ে তদন্তকারীদের কাছে সময় চেয়ে নিয়েছেন এই পপ-তারকা।
ঘটনার সূত্রপাত কোথায়?
জানা গেছে, একটি লাইভ শয়ে হানি সিংয়ের করা কিছু মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানিয়ে মহারাষ্ট্র সাইবার সেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন পাঠায় তদন্তকারী সংস্থা। তবে হানি সিং হাজিরা না দেওয়ায় এই আইনি জট কত দূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।
আইনি চাবুক ও ধারাবাহিকভাবে বিতর্ক:
গায়ক-র্যাপারের সংগীতজীবনে এটিই প্রথম আইনি বিতর্ক নয়। বিগত কয়েক মাস ধরেই একের পর এক আদালতের নির্দেশ ও অভিযোগ ধেয়ে এসেছে তাঁর দিকে:
মে মাসের হলফনামা: ‘হিন্দু শক্তি দল’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে গত মে মাসে হলফনামা জমা দিতে বাধ্য হন হানি সিং। ২০২৫ সালে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক কনসার্টে অত্যন্ত আপত্তিকর গান পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
‘ভলিউম ১’ গানের ওপর ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা: ২০০৬ সালে হানি সিং ও বাদশার গাওয়া বিতর্কিত গান ‘ভলিউম ১’-কে ঘিরে গত ২ এপ্রিল ঐতিহাসিক কড়া সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে অবিলম্বে সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে গানটির সমস্ত ইউআরএল (URL) সরিয়ে নেওয়া হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত কড়া। স্পষ্ট ভাষায় হাইকোর্ট জানায়—শিল্পের স্বাধীনতা বা বাকস্বাধীনতার অজুহাতে এমন অশ্লীল ও নারীদের প্রতি অবমাননাকর বিষয়বস্তু কখনোই কাম্য হতে পারে না। গানটিকে ‘চরম অশ্লীল, রুচিহীন ও নারীদের যৌন বস্তু হিসেবে উপস্থাপনকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবেদনকারী আইনজীবী রূপালি পানওয়ার আদালতে সওয়াল করেছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই ধরনের কুরুচিকর গান সহজেই শিশু-কিশোরদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঘন ঘন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেও ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীদের চোখ এখন মহারাষ্ট্র সাইবার সেলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই। সময় চেয়ে নেওয়ার পর র্যাপার নিজে কী প্রতিক্রিয়া দেন, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।