‘বিজেপির গুন্ডাদের আগে গেছে পুলিশ…’ রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে তুলকালাম ভোট! কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তৃণমূল

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে। ভোটের দিনই নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের নামে ‘গণতন্ত্র হত্যার’ মারাত্মক অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই উপনির্বাচনের নামে কার্যত ‘মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি’ বা গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বুথের পর বুথ ঘিরে রেখে সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেদার ছাপ্পা ভোট চালানো হয়েছে।

‘বিজেপির আগে পুলিশ পাঠাবে কেন?’

ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল অভিযোগ করেন, “বুথে সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলস ভোটের তাণ্ডব চলেছে আর দলদাস পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি কর্মীদের আগে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। পুলিশকে ব্যবহার করেই যাবতীয় সন্ত্রাস ও তাণ্ডব চালানো হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন বহু মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও আটক করে রাখা হয়েছিল, যাতে সেই সুযোগে বুথগুলোতে অবাধে ভোট লুট চালানো যায়।

‘ব্যাকডোর দিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা!’

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনকে বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ বলে মনে করছেন কুণাল। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে কাজে লাগিয়ে কমিশনকে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাকডোর দিয়ে বাংলা দখল করা হয়েছিল, এই উপনির্বাচনেও একই মডেলের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হলো। এভাবে লোকদেখানো প্রহসনের ভোট করার চেয়ে বিজেপি নিজেদের সরাসরি জয়ী ঘোষণা করে দিলেই পারত!”

এসআইআর ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ছক:

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর নামে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। আর ভোটের দিন যাঁদের নাম ছিল, তাঁদেরও বুথে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

কুণাল জানান, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথভিত্তিক অনিয়ম ও পুলিশি তাণ্ডবের বিষয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের শান্ত থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *