ইরানের হুমকির জেরে ব্রিটেন থেকে মার্কিন B-1 বোমারু বিমান প্রত্যাহার! মুখ খুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ (B-1) বোমারু বিমানগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সিদ্ধান্ত স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কার কারণেই এই চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ওয়াশিংটন এই হুমকি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে বোমারু বিমানগুলো রাখা সমীচীন ছিল না বলেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঠিক কী কারণে বিমান সরাল আমেরিকা?
সম্প্রতি ব্রিটেনের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের সমস্ত বোমারু বিমান দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। উল্লেখ্য, এই বিমানঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনী মূলত ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পরিচালনার কাজে ব্যবহার করত। তবে সম্প্রতি এই ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। ব্রিটিশ ভূখণ্ডে একটি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তদন্ত চলার মাঝেই এই বিমান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিতে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল, যে ঘটনায় মোট ছয়জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সমস্ত ঘটনা এবং গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ মূল ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা জানতাম হুমকির আশঙ্কা রয়েছে, এবং আমি কেন সেগুলোকে সেখানে ফেলে রাখব? এগুলো সরাতে খুব সামান্যই খরচ হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমাদের হুমকি দেওয়া হয়, আমরা তৎক্ষণাৎ সেই পদক্ষেপ নিই।”
যারা এই হুমকি দিয়েছে তাদের সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি মন্তব্য করেন যে, হুমকিদাতাদের সঙ্গে ইরানের নিশ্চিতভাবেই গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিমান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটিকে একটি ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার জন্য ইরানকে সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন।
ওয়াশিংটনের অন্দরেই মতপার্থক্য?
যদিও ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স ইরানের হুমকির তত্ত্বকে সামনে এনেছেন, তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিমান প্রত্যাহারের সঙ্গে সন্দেহভাজন ইরানি ষড়যন্ত্রের কোনো সরাসরি যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, পেন্টাগন প্রয়োজন ও রণকৌশল অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে নিয়মিতভাবে তাদের সামরিক সম্পদের পুনর্বিন্যাস করে থাকে।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এই ঘটনার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ইরান মনে করে যে বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা কথিত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেওয়াই সবকিছু বলে দেয়। আপনারা সম্পূর্ণ ভুল পথে এগোচ্ছেন।”