আর্ট কলেজে পড়ার সামর্থ্য ছিল না! নিছক শখ থেকে ৩ ফুটের মহিষমর্দিনী বানিয়ে তাক লাগালেন কলেজছাত্র

ইচ্ছে ছিল ছেলেকে আর্ট কলেজে পড়াবেন, কিন্তু অভাবের সংসারে সেই সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। তবে প্রতিকূলতাকে জয় করে শুধুমাত্র নিজের অদম্য জেদ আর চেষ্টার জোরে কাদামাটি মেখেই আজ তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন নদিয়ার বাদকুল্লার এক কলেজছাত্র। তথাকথিত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নিছক শখের বশে মূর্তি তৈরি শুরু করলেও, আজ সেটাই হয়ে উঠেছে তাঁর পেশা। প্রতি বছর নিয়ম করে বিভিন্ন জায়গা থেকে মণ্ডপের অর্ডারের পাশাপাশি এবছর তাঁর মূল আকর্ষণ তিন ফুটের একটি নজরকাড়া মহিষমর্দিনী মূর্তি।

ছোটবেলার শখ থেকে মৃৎশিল্পে হাতেখড়ি
পুজোর আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই নিজের হাতে তিন ফুটের মহিষমর্দিনী মূর্তি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন তৃষাণু রায়। বর্তমানে কলেজ পড়ুয়ার তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তৃষাণু। তিনি জানান, এলাকার কোনো পালবাড়ির প্রতিমা তৈরির কাজ নিপুণভাবে চোখের সামনে দেখে এবং নিজের চেষ্টাতেই মূলত মৃৎশিল্পের এই দুনিয়ায় তাঁর পা রাখা।

কলেজের পড়াশোনার ফাঁকে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে নিজ হাতে মাটি, রং ও তুলির ছোঁয়ায় নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন এই মহিষমর্দিনী প্রতিমাটি। তৃষাণুর এই প্রতিভার কথা সামাজিক মাধ্যমের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়ার পর রানাঘাটের একটি পরিবার অনলাইনে যোগাযোগ করে তাঁর কাছ থেকে এই প্রতিমার বরাত দেয়। অবশ্য এর আগেও একাধিক জায়গায় মূর্তি তৈরির কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি।

সংসারের টানাপোড়েন ও মায়ের আক্ষেপ
তৃষাণুর মা ডলি রায় আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই কাদামাটি নিয়ে খেলা করতেন তাঁর ছেলে। কখনও পাখি, আবার কখনও ছোট ছোট পুতুল বা মূর্তি খেলতে খেলতেই বানিয়ে ফেলতেন তিনি।

মায়ের কথায়, ছেলেকে বড় কোনো আর্ট কলেজে পড়ানোর তীব্র ইচ্ছে ছিল, কিন্তু পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে তা কোনোদিনই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সেই দুঃখ আজও তাঁদের মনে রয়ে গিয়েছে। ছেলেবেলায় সামান্য কিছু ছবি আঁকার পাঠ নিলেও, মূর্তি তৈরির ওপর তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা হাতেকলমে শিক্ষা ছিল না।

ভবিষ্যতে হয়তো অন্য কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত হবেন তৃষাণু, তবুও মাটি ও প্রতিমা গড়ার এই চিরায়ত টান যে তিনি কখনোই ছাড়বেন না, তা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই তরুণ প্রতিভাধর শিল্পী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *