ভাঙল ৫ দশকের অভিশাপ! নরেন্দ্র মোদীর জমানাতেই কি চিরতরে শেষ হয়ে গেল ভারতে মাওবাদ বা নক্সাল সমস্যা?

১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি থেকে শুরু হওয়া নকশাল আন্দোলন একসময় ভারতের মধ্যভাগের বিশাল অংশকে গ্রাস করেছিল। প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলা এই মাওবাদী উপদ্রবে বহু প্রাণ হারিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের জওয়ানেরাও। একাধিক সরকার ক্ষমতায় এলেও এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে সেই দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পেল দেশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, ভারত এখন সম্পূর্ণভাবে ‘নকশালমুক্ত’ বা বামপন্থী উগ্রবাদ (LWE) মুক্ত। দেশের কোনো জেলাই আর নকশাল প্রভাবিত তালিকায় নেই।
অতীতের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও উদাসীনতা
১৯৬৭ সালের পর থেকে যতগুলি সরকার কেন্দ্রে এসেছে, তাদের কারোর কাছেই এই নকশাল সমস্যা মোকাবিলার কোনো কার্যকর কৌশল ছিল না। ফলস্বরূপ, দেশের মধ্যভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে, যখন ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় সিআরপিএফ (CRPF)-এর একটি টহলদার দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৭৬ জন জওয়ানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মাওবাদীরা। এরপরের চার বছরে, অর্থাৎ ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ১২৬টি জেলা মাওবাদী উপদ্রুত এলাকার তালিকায় চলে আসে।
মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক ও রূপান্তর
২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর এই নকশাল সমস্যার মোকাবিলায় এক অভূতপূর্ব ও সমন্বিত কৌশল নেয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেবল নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা অভিযানই নয়, তার সঙ্গে নিখুঁতভাবে যুক্ত করা হয় পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্কুল স্থাপন, মোবাইল টাওয়ার বসানো এবং ব্যাঙ্কের ঋণ সুবিধা।
যে সমস্ত এলাকাকে সরকার একসময় কেবল ‘নকশাল প্রভাবিত’ হিসেবে চিহ্নিত করে কার্যত নিজেদের দায়িত্ব সেরে ফেলত, সেখানে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিগত বছরগুলিতে সুরক্ষা ও উন্নয়নের জোড়া ফলায় আমূল বদলে গেছে সেই এলাকাগুলির চিত্র। চলতি বছরের (২০২৬ সাল) ৩০ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, দেশের একটি জেলাও আর নকশাল-উপদ্রুত নেই। নিরাপত্তা ও সুশাসনের এই যুগান্তকারী মেলবন্ধনেই আজ পাঁচ দশকের লাল ত্রাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে ভারত।