মহাকাশে দীর্ঘ ৮ মাস কাটিয়ে পৃথিবীর পথে নাসা-র ক্রু-১২! কবে ও কোথায় ল্যান্ড করবে ড্রাগন ক্যাপসুল?

প্রায় আট মাস ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) সফল অভিযান চালানোর পর এবার পৃথিবীর মাটিতে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নাসা-র ক্রু-১২ (Crew-12) মিশনের মহাকাশচারীরা। আবহাওয়া এবং মহাকাশযানের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনুকূল থাকলে, আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৮:০৫ মিনিটে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৫:৩৫ মিনিটে) স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানটিকে আইএসএস থেকে আলাদা করার পরিকল্পনা করেছে নাসা ও স্পেসএক্স।
চার সদস্যের এই দলে রয়েছেন নাসা-র মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথওয়ে, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) সোফি আদেনোট এবং রসকসমসের কসমোনাট আন্দ্রেই ফেদিয়েভ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৮ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে ড্রাগন ক্যাপসুলটির স্প্ল্যাশডাউন বা অবতরণ করার কথা রয়েছে, যা ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ৯:০৪ মিনিটে হবে।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী ক্রু-১২ ফেরার সম্পূর্ণ সময়সূচি
নাসা ও স্পেসএক্স-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটির লাইভ কভারেজ ও সময়তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
৭ অক্টোবর (হ্যাচ বন্ধ): ভারতীয় সময় বিকেল ৩:৩০ মিনিটে স্পেসশিপের হ্যাচ বন্ধ করার কভারেজ শুরু হবে।
৭ অক্টোবর (আনডকিং): ভারতীয় সময় বিকেল ৫:১৫ মিনিটে আনডকিং-এর কভারেজ শুরু হবে এবং তার ঠিক ২০ মিনিট পর (বিকেল ৫:৩৫ মিনিটে) আইএসএস থেকে বিচ্ছিন্ন হবে ড্রাগন।
৮ অক্টোবর (রিএন্ট্রি ও ল্যান্ডিং): ভারতীয় সময় রাত ৭:৫০ মিনিটে প্রত্যাবর্তনের লাইভ সম্প্রচার শুরু হবে। এরপর রাত ৮:১৬ মিনিটে ডি-অরবিট বার্ন এবং রাত ৯:০৪ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে সফল স্প্ল্যাশডাউন হওয়ার কথা।
অবশ্য এই সমস্ত সময় পরিবর্তন সাপেক্ষ। প্রশান্ত মহাসাগরের ল্যান্ডিং জ়োনের আবহাওয়া এবং রিকভারি টিমের প্রস্তুতির ওপর নজর রাখছেন মিশন ম্যানেজাররা। আবহাওয়া খারাপ হলে নাসা ও স্পেসএক্স যাত্রার সময় পরিবর্তন করতে পারে।
প্রায় আট মাস দীর্ঘ এই মিশনের নেপথ্য কাহিনি
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেটের পিঠে চড়ে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিল ক্রু-১২। ক্রু-১১ মিশন চিকিৎসাজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসায়, মহাকাশ স্টেশনে স্বাভাবিক কর্মীসংখ্যা বজায় রাখার জন্যই এই মিশন পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় আট মাস ধরে এই কক্ষপথের ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়েছেন নভোচররা।
এই দীর্ঘ মিশনে মাইক্রোগ্রাভিটি বা শূন্য অভিকর্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক কাজ সম্পন্ন করেছেন তাঁরা। এর মধ্যে নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া সংক্রান্ত গবেষণা এবং উদ্ভিদের সঙ্গে নাইট্রোজেন-সংবন্ধকারী জীবাণুর মিথস্ক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই গবেষণাগুলির মূল উদ্দেশ্য হলো মানবস্বাস্থ্য উন্নত করা, খাদ্য উৎপাদন বাড় এবং পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাশূন্যে দীর্ঘযাত্রার পথ সুগম করা।
পৃথিবীতে ফিরে আসার পর সমস্ত নভোচরকে রুটিন চেকআপের মুখোমুখি হতে হবে, যাতে তাঁরা পৃথিবীর অভিকর্ষের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন। পুরো ল্যান্ডিং প্রক্রিয়াটি ‘নাসা লাইভ’ (NASA Live) এবং ‘নাসা প্লাস’ (NASA+)-এ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।