‘ভোট চোর, গদি ছোড়!’ জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে ইন্ডিয়া জোটের মেগা মার্চে ধুন্ধুমার!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল জাতীয় রাজধানী। ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের পর এবার সরাসরি রাজপথে নেমে প্রতিবাদে সামিল হলেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাংসদেরা। নির্বাচন সদন অভিযানের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংসদ থেকে নির্বাচন সদন অভিযান ও পুলিশের বাধা
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এদিন সকালে সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিলেশ যাদব-এর মতো হেভিওয়েট নেতারা।

তবে বিরোধীদের এই মিছিল ঠেকাতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল দিল্লি প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের আটকাতে মোতায়েন করা হয় ৩ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী। মিছিল কিছুটা এগোতেই ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয় পুলিশ। এর পরই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তাতেই ধর্নায় বসে পড়েন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা। মিছিল থেকে লাগাতার স্লোগান উঠতে থাকে— “ভোট চোর, গদি ছোড়!”

মহিলা সাংবাদিক হেনস্থায় অভিযুক্তের পদোন্নতিতে বিতর্ক
এদিকে, এই প্রতিবাদের আবহে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে দিল্লি পুলিশের একটি পদক্ষেপ। এর আগে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন মহিলা সাংবাদিক দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের তালিকায় অন্যতম নাম ছিল দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগৎ।

অভিযোগ রয়েছে, এত বড় বিতর্ক ও প্রতিবাদের মুখেও সেই অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককেই সম্প্রতি পদোন্নতি (প্রোমোশন) দেওয়া হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি এটি একটি রুটিন পদোন্নতি, তবুও এই ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবিতে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং দিল্লি পুলিশের কড়া অবস্থানের জেরে পারদ চড়েছে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *