উত্তর প্রদেশে আসন নিয়ে মহা-সংঘাত! ২০০ আসনে লড়ার দাবিতে অখিলেশ যাদবকে কড়া বার্তা কংগ্রেসের

আসন্ন উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে তীব্র রাজনৈতিক কোন্দল শুরু হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি (SP) একসঙ্গে লড়াই করলেও, আসন্ন বিধানসভা ভোটে দুই দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে এখন ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে। মোট ৪০৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস একাই ২০০টি আসনে অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকাংশে লড়ার দাবি তোলায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
পুরনো পরিসংখ্যান ও বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত
অতীতের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সমাজবাদী পার্টি বারবার কংগ্রেসকে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিগত ২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়ে কংগ্রেস মাত্র দুটি আসনে জয় পেয়েছিল, যেখানে এসপি জিতেছিল ১১১টি আসনে। এর আগে ২০১৭ সালের নির্বাচনে এসপির সঙ্গে জোট বেঁধে ১০৫টি আসনে লড়ে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৭টি আসন।
এমতাবস্থায়, এসপি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে কংগ্রেসকে ৫০টির বেশি আসন ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই। কোন দলের জেতার সম্ভাবনা কতটা, তার ভিত্তিতেই আসন ভাগাভাগির ফর্মুলা তৈরি হবে বলে দাবি করেছেন এসপি নেতারা। প্রতাপগড়ের সাংসদ এসপি সিং প্যাটেলের মতে, রাজনৈতিক শক্তি ও সাংগঠনিক কাঠামো বিচার করেই আসন বরাদ্দ হয়, তাই কংগ্রেসের ২০০ আসনের দাবি অবাস্তব।
কংগ্রেসের বিকল্প পরিকল্পনা ও ওবিসি সমীকরণ
তবে এসপির এই কড়া বার্তার বিপরীতে নরম মনোভাব দেখাতে নারাজ কংগ্রেস। উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস ইনচার্জ রাজেন্দ্র পাল গৌতম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা সম্মানজনক ও সমতার ভিত্তিতে জোট চেয়েছিলাম। কিন্তু সময়মতো সিদ্ধান্ত না হলে আমাদের সংগঠন ৪০৩টি আসনেই লড়তে প্রস্তুত। অন্য কোনো দল কি নিজের অস্তিত্ব শেষ করে জোট করবে?”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্প্রতি বেশ কিছু ওবিসি (OBC) সংগঠনের সঙ্গে কংগ্রেসের দফায় দফায় বৈঠকের পরই দলটির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্যের ‘রাষ্ট্রীয় ষোড়শ সমাজ পার্টি’-সহ জনবাদী পার্টি এবং আপনা দল (কামেরাওয়াড়ি)-র মতো দলগুলির সঙ্গে কংগ্রেসের যোগাযোগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এসপিকে একরোখা না রেখে চাপে রাখতেই এই কৌশল নিয়েছে হাত শিবির।
অখিলেশের দূরত্ব ও ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েন
এদিকে, অখিলেশ যাদবের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে বলেই জল্পনা তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত গত মাসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের নবনিযুক্ত কার্যনির্বাহী সভাপতি ইমরান মাসুদ সতর্ক করে বলেছেন, “এখনই সময়, নয়তো আর সময় নেই। বিজেপিকে হারাতে হলে অবিলম্বে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে প্রচার শুরু করা দরকার, অন্যথায় বড় ভুল হবে।”
সব মিলিয়ে, উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে অখিলেশ যাদব ও কংগ্রেসের এই শীতল লড়াই আগামী দিনে ভোটের সমীকরণকে কোন দিকে মোড় দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।