প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়িয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে সুপার টাইফুন ‘নোলো’! জাপানের দিকে কি বড় বিপদের সংকেত?

এল নিনোর প্রবল প্রভাবে একের পর এক শক্তিশালী ঝড় তৈরি হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে। আবহবিদদের আশঙ্কা, প্রতিটি ঝড়ই ভয়ানক শক্তি সঞ্চয় করে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। কিছুদিন আগেই ‘পোলো’ নামের একটি হারিকেন আছড়ে পড়েছিল মেক্সিকোতে। আর এবার ভয়ংকর রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে ‘নোলো’ (Nolo)। ইতিমধ্যেই এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী টাইফুনে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক তারিখরেখা পেরনোর পরেই বদলে গিয়েছে এই ঝড়ের পরিচয়। আগে যাকে ‘হারিকেন নোলো’ বলা হচ্ছিল, এখন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেটিই ‘টাইফুন নোলো’ নামে পরিচিত। ঝড়ের গতিবিধির দিকে প্রতিনিয়ত নজর রাখছেন আবহবিদরা।
হারিকেন ও টাইফুনের মধ্যে তফাত কোথায়?
অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, হারিকেন এবং টাইফুনের মধ্যে ঠিক কী পার্থক্য রয়েছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম আলাদা হলেও ঝড়ের মূল প্রকৃতি বা ধরনে আদতে কোনো তফাত নেই। এই নামকরণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর। উত্তর আটলান্টিক এবং মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ট্রপিক্যাল সাইক্লোনকে সাধারণত ‘হারিকেন’ বলা হয়। অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঠিক একই ধরনের ঝড়কে বলা হয় ‘টাইফুন’। নোলো নামের এই ঝড়টি যখন আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বা ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখনই এর নাম বদলে টাইফুন হয়ে যায়।
কতটা শক্তিশালী এই ঝড়?
আন্তর্জাতিক তারিখরেখা অতিক্রম করার আগে ‘নোলো’ অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে শক্তি বাড়িয়েছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি ঘণ্টা প্রতি ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, এই মুহূর্তে টাইফুন নোলোর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি প্রায় ১৭৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে এই ঝড়ের শক্তি কমার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন আবহবিদরা।
কোথায় এগোচ্ছে নোলো?
আপাতত এই শক্তিশালী ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ জাপানের সমুদ্র উপকূলের দিকে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম দিক থেকে এগিয়ে এসে ঝড়টি ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে বাঁক নিতে পারে। আগামী ১০ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে জাপানের দক্ষিণের সমুদ্রের দিকে এই সিস্টেমটির অবস্থান হতে পারে। তবে এত দূরের পূর্বাভাসে গতিপথে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা থেকেই যায়। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, এই মুহূর্তে ঝড়ের সরাসরি কোনো স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। ফলে প্রশাসনের মূল নজর এখন সমুদ্রপথ এবং জাহাজ চলাচলের ওপর।
সতর্কবার্তা ও সমুদ্রের পরিস্থিতি
এই মহাশক্তির প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা চরম উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের কেন্দ্রের চারপাশে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া এবং বিপজ্জনক বড় বড় ঢেউ তৈরি হতে পারে। ফলে সমুদ্রে থাকা সমস্ত জাহাজ ও জলযানগুলির জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থার পক্ষ থেকে সমুদ্রের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী দিনে নোলোর শক্তি কতটা হ্রাস পায় এবং এর গতিপথ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।