‘সরাসরি পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে!’ নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে চরম অশান্তির আশঙ্কায় শুভঙ্কর সরকার

উপনির্বাচনের দিনেই রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে (Nandigram Bye-Election) সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটে ব্যাপক অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Subhankar Sarkar)।

শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কংগ্রেস কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মনে ভয়-আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এলাকায় সশস্ত্র বহিরাগতদের জমায়েত হয়েছে এবং রাতের অন্ধকারে বাইক বাহিনী দাপিয়ে বেড়িয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে কঠোর হস্তক্ষেপ করে নন্দীগ্রামে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।

কী অভিযোগ তুলেছেন শুভঙ্কর সরকার?
শুধু নন্দীগ্রাম নয়, রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন শুভঙ্করবাবু। তিনি জানান, সোমবার রাতে মালদহ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ইশা খান চৌধুরী মালদহ জেলা পরিষদের তিনজন সদস্যকে নিয়ে পাকুড় থেকে ফিরছিলেন। অভিযোগ, মালদহ স্টেশনে পৌঁছানো মাত্রই স্টেশনের বাইরে বিজেপির বিশাল বাহিনী জমায়েত করে। এর পরেই ট্রেনের ভিতরে ঢুকে পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই ওই তিন জেলা পরিষদ সদস্যকে আটক করে।

কংগ্রেস সভাপতির দাবি, ওই তিনজন সদস্য কংগ্রেসে যোগদান করতে চলেছিলেন এবং মালদা জেলা পরিষদে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা ছিল।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই রাজ্যে যারা বিজেপির প্রকৃত বিরোধিতা করছেন, তাদেরই নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। কেউ কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেই পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। অথচ যারা ছদ্ম বিরোধী এবং পরোক্ষে বিজেপিকে সমর্থন করছেন, তারা হাজারো অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। চরম অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাদের ক্ষেত্রে সব অপরাধ মাফ হয়ে যাচ্ছে। রাজ্যে এক চরম নৈরাজ্যের শাসন চলছে।”

শুভঙ্কর সরকার আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ যাদের আটক করেছে, তাদের সুরক্ষার জন্য মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে পুলিশের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং আইনি লড়াইয়ের পথে নামার হুঙ্কারও দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *