একুশের ‘ভাঙা পা’ রহস্যে নতুন বিস্ফোরণ! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এমন কী বললেন শুভেন্দু, যা শুনে তোলপাড় রাজ্য?

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামের প্রচারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার ঘটনা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে ফের দাবানল ছড়িয়েছে। শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মমতার সেই সময়ের একটি বিতর্কিত মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, এই বিষয় নিয়ে বেশি জলঘোলা বা ঘাঁটাঘাঁটি করলে শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঘরের বাইরে বেরোনোর মুখটুকুও পাবেন না।

এদিন নবান্নের প্রেসমেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কর্তৃক স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো একটি আইনি চিঠির প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উনি খুব ভুল করেছেন। ওঁর আইনজীবী স্বাস্থ্য দফতরে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, আমি তা আমার কাছে আনিয়ে নেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত ভুলে গেছেন যে সেসময় উনি নিজে মামলা করেছিলেন এবং সেই মামলা সিআইডি (CID)-র হাতে দেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিক নিয়মেই এসএসকেএম বা পিজি (PG) হাসপাতালে সেই সংক্রান্ত কোনো নথি থাকার কথা নয়।”

এর পরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে সরাসরি তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, “আমি ওঁর আইনজীবীকে বলব, বেশি ঘাঁটাঘাঁটি কম করতে। এক্স-রে প্লেট আর এমআরআই (MRI) রিপোর্ট যদি এবার দেখাতে শুরু করি, তবে উনি আর বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না।” উল্লেখ্য, একুশের ভোটে নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় পা ভেঙে যাওয়ার পর হুইলচেয়ারে বসে মমতার সেই ‘ভাঙা পায়ে খেলা হবে’ স্লোগান রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন ফেলেছিল। সেসময় বিজেপি নেতা ও প্রলয় পালের বিরুদ্ধে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়ে মামলা ঠুকেছিলেন।

তবে প্রশ্ন উঠছে, সেই মামলার ফাইল বা এসএসকেএম-এ না থাকা অত্যন্ত গোপনীয় সেই মেডিক্যাল রেকর্ড হঠাৎ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে এল কী করে? এই প্রসঙ্গে শুভেন্দুর রহস্যময় মন্তব্য, “দরকার পড়লে আমি নিজেই বলে দেব এই কাগজ আমি কোথা থেকে পেয়েছি।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বনাম বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন সংঘাত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন চরম উত্তেজনার পারদ চড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *