একটানা কানের দুল পরেন? ছিদ্র পরিষ্কার না রাখলে যে ভয়াবহ ইনফেকশন হতে পারে, জানেন কি?

ফ্যাশনের ট্রেন্ডে কানের লতি বা কার্টিলেজে একাধিকবার কান ফুঁড়ানোর বা দুল পরার চল এখন বেশ জনপ্রিয়। লুক ফ্যাশনে ভিন্নতা আনতে অনেকেই একসঙ্গে একাধিক পিয়ার্সিং করিয়ে থাকেন। কিন্তু এই শখ বা ফ্যাশন ধরে রাখতে গিয়ে অনেকেই একটি জরুরি বিষয় ভুলে যান—তা হলো কানের ছিদ্রগুলোর সঠিক যত্ন ও নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিকবার কান বিঁধালে এবং দীর্ঘদিন সেখানে দুল পরে থাকলে ছিদ্রের আশপাশে ময়লা, মৃত কোষ, ঘাম এবং ব্যাকটেরিয়া জমে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে একসময় চুলকানি, দুর্গন্ধ, পুঁজ জমা বা মারাত্মক ধরনের ইনফেকশনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কানের সৌন্দর্য বজায় রাখতে নিয়মিত সঠিক উপায়ে ছিদ্রগুলো পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কানের ছিদ্র নিয়মিত পরিষ্কার করার নিয়ম
১. হালকা সাবান ও জলের ব্যবহার: স্নানের সময় বা নিয়মিত রুটিনের অংশ হিসেবে কানের লতি হালকা উষ্ণ জল এবং মৃদু সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন। দুল খুলে ফেলার পর ছিদ্রের চারপাশ আলতো করে মুছে নেওয়া উচিত।
২. অ্যালকোহল প্যাড বা অ্যান্টিসেপটিক: নতুন পিয়ার্সিংয়ের ক্ষেত্রে বা মাঝেমধ্যে সুতির বল বা কটন বাডসে সামান্য অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড বা সলিউশন লাগিয়ে কানের ছিদ্রের উভয় পাশ আলতো করে মুছে নিতে পারেন। এতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়।
৩. নরম সুতো বা মেডিকেটেড দুল ব্যবহার: দীর্ঘদিন একই ধাতু বা ভারী দুল পরে থাকলে ছিদ্রের ভেতরের অংশ আটকে যেতে পারে। মাঝে মাঝে দুল বদলে হালকা ও হাইপোঅ্যালার্জেনিক বা রুপার দুল ব্যবহার করা নিরাপদ।
যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি
ময়লা জমতে না দেওয়া: প্রতিদিনের প্রসাধনী, পারফিউম বা হেয়ার স্প্রে অনেক সময় কানের ছিদ্রের ভেতরে ঢুকে আটকে যায়। তাই মেকআপ বা স্কিনকেয়ার রুটিন শেষ করার পর কান পরিষ্কারের বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার।
সংক্রমণ দেখলে অবহেলা নয়: কানের ছিদ্রের আশপাশে যদি অতিরিক্ত লালচে ভাব, ব্যথা বা ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে ঘরোয়া উপায়ে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফ্যাশন সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনই শরীরের সংবেদনশীল অংশগুলোর সঠিক যত্ন নেওয়াও সমানভাবে প্রয়োজন। একটু সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচর্যা আপনাকে বড় ধরনের ইনফেকশন ও শারীরিক অস্বস্তি থেকে দূরে রাখতে পারে।