সামান্য ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার আড়ালেই লুকিয়ে নেই তো বড় বিপদ? জানুন ‘নীরব ঘাতক’ হাই প্রেশার থেকে বাঁচার সহজ উপায়

আপনার কি প্রায়শই বিনা কারণেই ক্লান্তি লাগে? একটুতেই কি হাঁপিয়ে ওঠেন বা মাথা ঘোরে? অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে দৈনন্দিন কাজের চাপ বা সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ লক্ষণগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে এক মারাত্মক বিপদ? বাইরে থেকে আপনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হলেও, শরীরের ভেতর নিঃশব্দে বাসা বাঁধতে পারে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’ বা সাইলেন্ট কিলার, কারণ এটি কোনো রকম আগাম জানান না দিয়েই সরাসরি হার্ট ও রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে।
চিকিৎসকরা কী বলছেন?
দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের (দ্বারকা) ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. অমিত পেন্ধারকর জানাচ্ছেন, উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে ভয়ের দিক হলো এর কোনো নির্দিষ্ট বা স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা বা ক্লান্তি—এই উপসর্গগুলো প্রেশার বাড়লে দেখা দিতে পারে ঠিকই, তবে অন্যান্য সাধারণ কারণেও এমনটা হতে পারে।
অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে, শরীরে কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা অনুভব হলেই বুঝি প্রেশার বেড়েছে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কোনো রকম বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ না করেই এই রোগ নীরবে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা অত্যন্ত বোকামি।
রোগ ধরবেন কীভাবে?
এই নীরব শত্রুর হাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ এবং একমাত্র উপায় হলো নিয়মিত রক্তচাপ মাপা। বাড়িতে একটি ভালো মানের ব্লাড প্রেশার মনিটরিং মেশিন রাখুন অথবা কাছের কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নিয়মিত প্রেশার চেক করিয়ে নিন। এতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে।
তবে মেশিনে একবার রক্তচাপ বেশি দেখলেই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা বা কফি খাওয়ার কারণেও সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়তে পারে। তাই সঠিক নিয়ম মেনে, বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার প্রেশার মেপে তবেই নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সুস্থ থাকার সহজ কিছু টিপস:
নিয়মিত প্রেশার চেক: বয়স এবং স্বাস্থ্য অনুযায়ী সবার জন্যই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। পরিবারে হাই প্রেশার, স্থূলতা (ওবেসিটি), ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে আরও বেশি সতর্ক হওয়া দরকার।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন: প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করুন। খাবারে অতিরিক্ত নুনের পরিমাণ কমিয়ে দিন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
বর্জনীয় অভ্যাস: ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা অবিলম্বে ত্যাগ করুন।
মনে রাখবেন, শরীরে কোনো কষ্ট নেই বা আপনি খুব ভালো বোধ করছেন মানেই আপনার রক্তচাপ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। আজকের একটুখানি সচেতনতা এবং নিয়মিত সতর্কতা আপনার এবং আপনার হার্টকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে পারে।