পুরুলিয়া থেকে বালুরঘাট—রাজ্যের ৪ জেলায় নতুন বিমানবন্দর! নবান্নে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তিতে বড় ঘোষণা

রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। পর্যটনের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে একযোগে আরও চারটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর তৈরির বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডাকে ঘিরে নতুন করে উড়ান প্রকল্প ও বিমানবন্দর চালুর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

নবান্নে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি
এই সুদূরপ্রসারী প্রকল্পগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে আজ, সোমবার নবান্ন সভাঘরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডু, রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। জেলায় জেলায় বিমান যোগাযোগ মজবুত করা এবং আঞ্চলিক উড়ান পরিষেবাকে দেশের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কোন কোন এলাকায় কী ধরনের পরিষেবার পরিকল্পনা?
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই প্রকল্পের রূপরেখা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ছররা ও বালুরঘাটে নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে, যেখানে ১৯ থেকে ২০ আসন বিশিষ্ট ছোট ATR বিমান খুব সহজেই ওঠানামা করতে পারবে। অন্যদিকে, কলাইকুণ্ডা এবং হাসিমারায় বিমান পরিষেবা চালু করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ থেকে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এই দুই কেন্দ্রটিতে বড় আকারের বোয়িং বিমানও নিরাপদে অবতরণ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কোচবিহার বিমানবন্দরটির বর্তমান পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নতুন করে কল্যাীতে বিমানবন্দর তৈরির জন্য উপযুক্ত জমি খোঁজার কাজ চলছে।

১০ বছরের পিছিয়ে পড়া কাটিয়ে বড়লাফ
উড়ান প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যসচিব আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান যে, ২০১৬ সালে উড়ান স্কিম চালু হলেও রাজ্য অতীতে তা ঠিকমতো কার্যকর করতে পারেনি, যার ফলে প্রায় এক দশক পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সাফল্যের পথ অনুসরণ করে এবার বাংলার আকাশপথে বড়লাফ দেওয়ার সময় এসেছে।

শুধু অভ্যন্তরীণ যোগাযোগই নয়, আন্তর্জাতিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও জোর দিচ্ছে রাজ্য। কলকাতা থেকে সরাসরি লন্ডন কিংবা ইউরোপের অন্যান্য গন্তব্যে উড়ান চালু করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে যাতে আরও বেশি সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়, সেই সংক্রান্ত একটি জোরালো দাবিপত্রও ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী বিমান প্রকল্পগুলি রূপায়িত হলে বাংলার পর্যটন শিল্প এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *