“ওঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ!” দলবদল নিয়ে কুণাল ঘোষ-মহুয়া মৈত্রের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে কী জবাব দিলেন কোয়েল মল্লিক?

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন ‘দেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবেন’, আর ঠিক পাঁচ মাস পর বিজেপিতে নাম লিখিয়েও প্রায় একই সুর শোনা গেল জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি প্রার্থী কোয়েল মল্লিক-এর কণ্ঠে। মানুষের সেবাই তাঁর মূল লক্ষ্য—এ কথা বারবার জোর দিয়ে বললেও, তাঁর এই আকস্মিক দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। বিশেষ করে তাঁর দলবদল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। রবিবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং সোমবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তবে সমালোচকদের এই কটাক্ষকে বিন্দু মাত্র পাত্তা না দিয়ে এবার হাসিমুখেই তাদের মোক্ষম জবাব দিলেন কোয়েল।

ট্রোলারদের হেসে উড়িয়ে দিলেন কোয়েল
এদিন সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ প্রসঙ্গে খোলামেলা মেজাজে কোয়েল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি ট্রোলারদের এই নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নন। নিজেকে ‘সাইকোলজির ছাত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার একটুও রাগ হয়নি। হয়তো এই কারণেই যে আমি সাইকোলজির ছাত্রী, সেই মানবিকতাবোধ আমার রয়েছে। আমার মনে হয়, যাঁরা অন্যকে ছোট করে ও অপমান করে মানসিক আরাম পান, তা মূলত তাঁদের নিজেদের জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই আসে।”

এরপর মিষ্টি হেসে বিরোধীদের কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “তাঁরা যদি নিজেরা সুখে থাকতেন, তাহলে অন্য কাউকে অপমান করে ছোট দেখিয়ে এত বাজে বাজে কথা বলে টক্সিসিটি বা বিষাক্ততা ছড়াতেন না। আমি শুধু তাঁদের মানসিক সুস্থতা কামনা করি।”

মানুষের সেবাই আসল ব্রত
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আসল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে কোয়েল জানান, সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয়। আর সেই ভাবনা থেকেই তাঁর রাজনীতিতে আসা। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী বলেন, “মানুষের সেবা করা আমি জানি। যখন ছোট ছিলাম, গরমের ছুটিতে সবাই যখন ঘুরতে যেত, আমার মা তখন আমাকে নিয়ে যেতেন মিশনারি অফ চ্যারিটিতে। ভগবানের আশীর্বাদে আমি এমন এক পরিবারে জন্মেছি যেখানে আমি যথেষ্ট প্রিভিলেজড। তবে এই বৃত্তের বাইরের পৃথিবীটা যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা আমি খুব ছোট বয়স থেকেই জানি। তাঁদের জন্যই কিছু করার তীব্র ইচ্ছে আমার মধ্যে কাজ করত।”

সবার মঙ্গল কামনা করে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে কোয়েল বলেন, ঠিক যে কারণে তিনি রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন, আজও সেই উদ্দেশ্যেই অনড় রয়েছেন। সাধারণ মানুষের জীবনে ন্যূনতম কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলেই নিজের জীবন সার্থক বলে মনে করবেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *