“পিছন থেকে হঠাৎ আক্রমণ! মৃত্যুকে ভয় পাই না…” ফ্লাইদুবাই ককপিটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ফ্লাইদুবাই বিমান হাইজ্যাকিং ও নাশকতার চেষ্টার ঘটনায় দিন যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন সেই দিন ককপিটে আক্রান্ত হওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি সামনের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বসেছিলেন, ঠিক তখনই পিছন থেকে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
“মৃত্যুকে ভয় পাই না”: অভিযুক্ত কো-পাইলটের স্পর্ধা
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নিরাপত্তাকর্মীদের জেরায় ধৃত ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি (Hamam al-Hammami) নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে খবর। তদন্তকারীদের সে সাফ জানিয়েছে, সে মৃত্যুকে একটুও ভয় পায় না এবং তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ক্র্যাশ’ বা ধ্বংস করে দেওয়া। এমনকি ফ্লাইদুবাইয়ের এই রোমহর্ষক কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের আমেরিকায় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা।
উগ্রপন্থী মতাদর্শ ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল
‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ বছর বয়সি ওই ওমানি পাইলট ব্রিটেনের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে দূরশিক্ষায় অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট পড়ার সময় থেকেই কড়া উগ্রপন্থী ও জিহাদি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন পোস্ট বিশ্লেષণ করে দেখা গিয়েছে যে, তিনি নারীদের ওপর চরম হিংসা, ইহুদিদের প্রতি তীব্র ঘৃণা এবং কড়া শরিয়া আইনকে অন্ধের মতো সমর্থন করতেন। মহিলাদের নিয়ে তাঁর একাধিক আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
যেভাবে রুখে দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট
ইজরায়েলি ও ইউএই (UAE) কর্তৃপক্ষ এই গোটা ঘটনাকে একটি অত্যন্ত গুরুতর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি বিমানের ককপিটের ভেতরে থাকা ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ (Crash Axe) দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালায়। তবে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার চরম সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে হামলাকারীর সেই চক্রান্ত পুরোপুরি ভেস্তে দেন এবং ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর অন্য যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা দ্রুত ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করে ফেলেন। পরবর্তীতে বিমানটির গতিপথ ঘুরিয়ে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।
এই ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কারণে ওই যুবকের মনে উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দিয়েছিল এবং তাঁর এই মানসিক রূপান্তরের আসল রহস্য কী, তা খতিয়ে দেখতে এখন আন্তর্জাতিক স্তরে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।