অফিসের ৮ ঘণ্টার বদলে শুধু ৪ ঘণ্টাতেই বাজিমাত! চেতন ভগতের এই ফর্মুলা জানেন কি?

কাজের ঘণ্টার দৈর্ঘ্য নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় জোর বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই একেবারে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার চেতন ভগত। তাঁর সোজা কথা, দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা মন দিয়ে কাজ করলেই তা যথেষ্ট। তবে এর সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই চার ঘণ্টার মধ্যে অফিসের চায়ের কাপে আড্ডা, অফিশিয়াল মিটিং, ওয়াই-ফাইয়ের গোলমাল কিংবা অন্যান্য সময় নষ্টের বাহানা ধরলে চলবে না। একেবারে নিখাদ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক কাজই এর মূল চাবিকাঠি।
বেঙ্গালুরুর অনুষ্ঠানে কী বললেন চেতন ভগত?
গত ৩ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত PMSAC-এর ১৮তম সংস্করণে যোগ দিয়েছিলেন চেতন ভগত। দেশের শতাধিক ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট, গ্র্যান্ট থর্নটনের সিএলও অঙ্কিত ঝাম্ব, আইবিএম-এর ম্যানেজিং পার্টনার ঊষা শ্রীকান্ত এবং একাধিক শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতাদের উপস্থিতিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
বর্তমানে ভারত সহ গোটা বিশ্বেই কর্পোরেট কর্মীদের দৈনিক কাজের সময়সীমা এবং ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে চেতন ভগতের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, মানুষ সারাদিন অফিসে ৮ বা ১০ ঘণ্টা সময় কাটালেও তার একটা বড় অংশই আসলে নিষ্ফলা। তার চেয়ে যদি কেউ দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা নিজের সর্বস্ব দিয়ে কাজ করেন, তবে অনেক বেশি সুফল পাওয়া সম্ভব।
কীভাবে সম্ভব ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স?
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স বা কাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়ও বাতলে দিয়েছেন চেতন। তাঁর পরামর্শ, জীবনে এমন কাজ করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দিন। নিজের জীবনের ১১টি সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
চেতনের সেই জীবনদর্শন ও নিয়মের মধ্যে রয়েছে:
-
নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া এবং ঘুমের সুনির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা।
-
কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা চিহ্নিত করা।
-
সঠিক সময় বা সুযোগ আসার অপেক্ষা না করে অবিলম্বে নিজের কাজ শুরু করে দেওয়া।
লেখকের এই বক্তব্যের মূল বার্তা কেবল কাজ কমিয়ে দেওয়া নয়, বরং কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি জরুরি তা বুঝে সেই নির্দিষ্ট সময়ে নিজের শতভাগ মনোযোগ নিবদ্ধ করা। কর্পোরেট দুনিয়ার ইঁদুর দৌড়ের মাঝে চেতন ভগতের এই ‘স্মার্ট ওয়ার্কিং’ তত্ত্ব এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে অফিসপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।