পেট্রল-ডিজেলের দাম ফের বাড়তে পারে ? তেল উৎপাদন না বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত ওপেকের

ইরান ও আমেরিকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মাঝেই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করে গিয়েছে। এমন অগ্নিমূল্য পরিস্থিতিতেও আগামী নভেম্বর মাসে তেলের উৎপাদন না বাড়ানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেকভুক্ত দেশগুলি। একদিকে তেলের জোগান না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং অন্যদিকে বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগের মেঘ জমছে।

নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে তেলের জোগান

সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমানকে নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস-এর এই উপগোষ্ঠী রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে। বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নভেম্বরে তেলের উৎপাদন বাড়ানো বা কমানো—কোনোটিই করা হবে না। অর্থাৎ, বর্তমান তেলের সরবরাহ আগের মতোই বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এই গোষ্ঠী আগামী ১ নভেম্বর ফের বৈঠকে বসবে। আপাতত এক মাসের জন্য তেলের উৎপাদনে কোনো পরিবর্তন আনছে না তারা।

কেন আকাশছোঁয়া তেলের দাম?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির এই লাগামছাড়া দাম বাড়ার প্রধান কারণ আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাত। এই যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের শৃঙ্খলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। যার ফলে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের মূল মাপকাঠি হলো ‘ব্রেন্ট ক্রুড’। সেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

ময়দানে নামল G7 দেশগুলি

পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে জি-৭ (G7) ভুক্ত উন্নত দেশগুলো—আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই দেশগুলি আগামী সপ্তাহ থেকেই বিশ্ব বাজারে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক পরিকল্পনা নিয়েছে। যার প্রথম ধাপে বাজারে আসবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল।

ভারতের বাজারে এর প্রভাব কতখানি?

ভারত সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশই তাদের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভর করে মেটায়। স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লে পেট্রোল ও ডিজেল তৈরির সার্বিক খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুডের দাম বাড়লেই যে সঙ্গে সঙ্গে ভারতেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম হু হু করে বাড়বে, এমন সরলীকরণ করা ভুল। কারণ, দেশে জ্বালানির খুচরো দামের পেছনে অপরিশোধিত তেলের দাম ছাড়াও বেশ কিছু বিষয় জড়িয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি খরচ, শোধন ও পরিবহণ খরচ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ধার্য করা বিভিন্ন কর, পাশাপাশি তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির মার্জিন। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লেও স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব সবসময় সরাসরি বা সমপরিমাণে পড়ে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *