‘নতুন প্রজন্মকে নষ্ট করছে…’ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার খুনের দায় স্বীকার গ্যাংস্টার গোল্ডি ধিলনের!

পাঞ্জাবের অমৃতসরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা মেকআপ আর্টিস্ট মধুসূদন ওরফে ‘পাগল সান্ধু’ (Mad Sandhu) হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এসেছে। এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছে, যা ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রবাসী গ্যাংস্টার গোল্ডি ধিলন (Goldy Dhillon) এবং জাগ্গা তারন তারানের নাম যুক্ত একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে এই চাঞ্চল্যকর পোস্টটি করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই পোস্টটির সত্যতা স্বাধীনভাবে এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হত্যার দায় স্বীকার ও কড়া হুমকি
ওই ভাইরাল পোস্টে সরাসরি দাবি করা হয়েছে যে, রঞ্জিত অ্যাভিনিউয়ে সংঘটিত ‘পাগল সান্ধু’ হত্যাকাণ্ডের সমস্ত দায় গোল্ডি ধিলন এবং জাগ্গা তারন তারান গ্রহণ করছে। শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি ওই গ্যাংস্টার গোষ্ঠী, বরং পোস্টে আক্রমণাত্মক ভাষায় বলা হয়েছে যে এই ধরনের ব্যক্তিরা সমাজের নতুন প্রজন্মকে নষ্ট করছে। এমনকি যে সমস্ত স্কুল এই ধরনের ব্যক্তিদের নিজেদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়, তাদেরও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
পোস্টে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, পঞ্জাবে যারা গুন্ডামির সংস্কৃতি তৈরি করতে চায়, তাদের অবিলম্বে রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। এই ভূমি যোদ্ধাদের, আর এখানে কেবল যোদ্ধারাই বাস করবে— এমন মন্তব্যও করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যাদের ফোনে এখনও তাদের গ্যাংয়ের হুমকি বা ‘রং নম্বর’ যায়নি, তাদেরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেই হত্যাকাণ্ডে?
গত শনিবার সন্ধ্যায় অমৃতসরের লোহর্কা রোডে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ মোটরসাইকেলে চেপে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী আচমকাই আক্রমণ চালায় এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মধুসূদন ওরফে ‘ম্যাড’ সান্ধুকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ADCP) সিরিভেনেলা জানিয়েছিলেন যে, হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটিতে #রানাধিলন, #রকিপর্তুগাল, #সুখাসান্ধু, এবং #হুড৪২০কানাডা-র মতো একাধিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এই পোস্টটি খোদ গোল্ডি ধিলন করেছে নাকি তার কোনো সহযোগী এই কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।