সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে কি পুড়িয়ে মারার চেষ্টা? বাড়ি থেকে উদ্ধার অগ্নিদগ্ধ নেতা, চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের!

সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে কি না—এই চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ঘিরেই এখন উত্তাল মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান। গতকাল শনিবার সকালে নিজ বাসভবনেই রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন ওই বিধায়ক। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন থাকলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

কীভাবে ঘটেছিল ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ধুলিয়ানে বাইরন বিশ্বাসের বাড়ি থেকে হঠাৎই আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন প্রতিবেশীরা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমকলে। দ্রুত দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর বাড়ির ভিতর থেকে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিধায়ককে।

প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, বাইরন বিশ্বাসের দুই হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ এবং হাঁটুর নীচ থেকে কিছুটা অংশ পুড়ে গেছে। শনিবারই তাঁকে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হলেও, বর্তমানে তিনি নিজের মালিকানাধীন নার্সিংহোমের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং। তিনি জানান, বিধায়কের ‘সুপার ফিশিয়াল ইনজুরি’ হয়েছে, অর্থাৎ ক্ষত খুব গভীর নয়।

দুর্ঘটনা নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য?
শনিবারের এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের একটি বড় অংশের অনুমান, এটি নেহাত কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং বাইরনের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, পারিবারিক কোনো অশান্তি কিংবা অন্য কোনো ক্ষোভের জেরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে কি না, সে দিকটিও সমানভাবে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *