‘এতে কিচ্ছু যায় আসে না!’ আরাধনা মিশ্রকে ইউপি কংগ্রেসের প্রধান বানাতেই যোগী মন্ত্রীর বিস্ফোরক টিপ্পনী

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল ঘটেছে। দলের হাইকম্যান্ড আরাধনা মিশ্র ‘মোনা’-কে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস কমিটির নতুন সভাপতি এবং সাহারানপুরের সাংসদ ইমরান মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সঁপেছে। এই মেগা পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আর এর মাঝেই কংগ্রেসকে সরাসরি এক হাত নিলেন উত্তরপ্রদেশ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (SBSP) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর (Om Prakash Rajbhar)।
‘মুসলিম মুখকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করুন’
শনিবার (৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওপি রাজভর কংগ্রেসের নতুন নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে বলেন, আরাধনা মিশ্র কিংবা ইমরান মাসুদকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দিলেও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো বিশেষ পার্থক্য তৈরি হবে না। কংগ্রেস যদি সত্যিই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হিতৈষী হতে চায়, তবে তাদের উচিত কোনো রাখঢাক না করে সরাসরি একজন মুসলিম নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা।
শুধু কংগ্রেসই নয়, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিকেও (SP) একই সুরে পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এসপি-র প্রতিও আমার একই পরামর্শ থাকবে, তারাও যেন কোনো মুসলিম প্রার্থীকে তাদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে আনে।” রাজভরের মতে, কংগ্রেস এবং এসপি—উভয় দলই মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটের ওপর ভর করেই রাজনীতি করে, তাই তাদের উচিত এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া।
নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে খোঁচা
কংগ্রেস সভানেত্রী হিসেবে আরাধনা মিশ্রর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই প্রধান বিরোধী দলগুলিকে অতীত স্মরণ করিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন রাজভর। তাঁর অভিযোগ, অতীতে লোকসভা ও বিধানসভায় ‘নারী সংরক্ষণ বিল’ আসার সময় এই কংগ্রেস দলই তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। শুধু কংগ্রেস নয়, সমাজবাদী পার্টিও এই বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে যোগী মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যে দলগুলি অতীতে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে, তারা আজ কোন মুখে নারীদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করবে? দেশের নারীরা এখন অনেক বেশি সচেতন উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভোট প্রচারে গেলে সাধারণ মহিলারা অবশ্যই এই দলগুলিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন এবং অতীতের ভুলের জবাবদিহি চাইবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউপি ভোটের আগে বিরোধী শিবিরের এই সাংগঠনিক রদবদল এবং ওপি রাজভরের মতো নেতার এহেন তীক্ষ্ণ আক্রমণ রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইকে আরও বেশি জমজমাট করে তুলেছে।