১৭৪ যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে রাতারাতি হিরো! ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে যা বললেন সলমন খান

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে বড় ধরনের নাশকতার ছক বানচাল করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। মাঝআকাশে কো-পাইলটের প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাত ও রক্তাক্ত শরীর নিয়েও অবিশ্বাস্য সাহসিকতার সঙ্গে বিমানটিকে সুরক্ষিতভাবে অবতরণ করানোর সেই বিরল বীরত্বকে এবার কুর্নিশ জানালেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। স্মিতের এই সাহসিকতা দেখে মুগ্ধ অভিনেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তা দিয়ে ওই বীর পাইলটের সঙ্গে বিমানে সফর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এক্স হ্যান্ডেলে (প্রাক্তন টুইটার) পাইলট স্মিত মচ্ছরের ছবি শেয়ার করে সলমন খান লিখেছেন, “কামাল করে দিয়েছেন পাইলট জি! আমরা সবাই আপনাকে স্যালুট জানাই। আপনার সঙ্গে বিমানে উড়তে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় হবে। ওয়েল ডান ব্রো… ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর।”
কী ঘটেছিল সেদিন মাঝআকাশে?
গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ‘FZ1073’ নম্বর বিমানটি দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বিমানটি যখন ৩৪,০০০ ফুট উঁচুতে উড়ছিল, ঠিক তখনই কো-পাইলট হঠাৎই বিমানটি ক্র্যাশ করানোর কুমতলবে প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। রক্তক্ষয়ী সেই আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েও অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন স্মিত। বিমানটি ১৭,০০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেলেও সেই মারাত্মক পরিস্থিতিতে জরুরি সংকেত পাঠিয়ে সৌদি আরবের তাবুক শহরের ‘প্রিন্স সুলতান বিন আবদেল আজিজ’ বিমানবন্দরে অত্যন্ত নিরাপদে সেটিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যান তিনি। ওই বিমানে ২৭টি শিশুসহ মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর বিমানটির গ্যালিতে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় রক্তভেজা শরীরে শুয়ে আছেন আহত ক্যাপ্টেন স্মিত। পরবর্তীতে শুক্রবার আবু ধাবির একটি হাসপাতাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি। প্রায় ১০ মিনিটের সেই কথোপকথনে স্মিতের নাকে টিউব এবং মাথা ও হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। সেই ভয়াল স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ১৭ বছরের অভিজ্ঞ এই পাইলট।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথোপকথন
প্রধানমন্ত্রীকে স্মিত জানান, “আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম বিমানটি হু হু করে নিচের দিকে ভেঙে পড়ছে… আমি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু নিজের মনকে শক্ত করে বলি, ককপিটের দরজাটা ঠিক সামনেই আছে, ওটা যেকোনো মূল্যে খুলতেই হবে। আমি শেষ শক্তি দিয়ে দরজাটা খুলতে সক্ষম হই এবং বাইরের লোকজন ভেতরে চলে আসেন।” তিনি জানান, চরম বিপদের সেই মুহূর্তে তিনি মনে মনে হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন এবং ভগবানই সেদিন অলৌকিকভাবে তাঁকে ও যাত্রীদের বাঁচিয়েছেন।
ভিডিও কলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা ও মানসিক দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্মিতের এই সাহসী পদক্ষেপে বহু মানুষের অমূল্য প্রাণ বেঁচেছে এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় পাইলটদের পেশাদারিত্ব, সাহস ও দেশের সুনাম এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।