“মেসেজ দেখিয়েই স্ত্রীর পরকীয়া প্রমাণ করা যায় না!”-ভরণপোষণ মামলা নিয়ে বড় রায় হাইকোর্টের

শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাটের স্ক্রিনশট দেখিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব নয়। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তখনই আইনিভাবে ধোপে টেকে, যখন স্পষ্ট প্রমাণ থাকে যে স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে আলাদাভাবে বসবাস করছেন এবং তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন। ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এই স্পষ্ট বার্তা দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
ঠিক কী ঘটেছিল মামলাটিতে?
পারিবারিক আদালতের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রী এক আইনজীবীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এই দাবির সপক্ষে ইনস্টাগ্রাম চ্যাটের কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটও আদালতে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন ওই স্বামী। তাঁর দাবি ছিল, এই পরিস্থিতির পর স্ত্রীর আর খোরপোশ বা ভরণপোষণ পাওয়ার কোনো আইনি অধিকার নেই।
কী জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট?
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জয়কৃষ্ণ উপাধ্যায় স্বামীর এই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন এবং নিম্ন আদালতের খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশই বহাল রেখেছেন। বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, স্বামীকে আইনিভাবে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত রয়েছেন। কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাট বা কথোপকথনের স্ক্রিনশট এর জন্য যথেষ্ট বা উপযুক্ত প্রমাণ হতে পারে না।
আদালত আরও জানিয়েছে, ক্ষণিকের ভুল বোঝাবুঝি, পেশাগত যোগাযোগ কিংবা নিছক সন্দেহের বশে কারও বিরুদ্ধে পরকীয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ চাপানো যায় না। বিচারপতির কথায়, তর্কের খাতিরে যদি সোশ্যাল মিডিয়ার ওই কথোপকথন সত্য বলেও মেনে নেওয়া হয়, তবুও তা দিয়ে এটা প্রমাণ হয় না যে স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে আলাদা থাকছেন বা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
ইলেকট্রনিক প্রমাণের সত্যতা নিয়ে কড়া বার্তা
হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রমাণ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যেকোনো সময় তা পরিবর্তনযোগ্য। আইন অনুযায়ী, এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হলে তার সঠিক সত্যতা যাচাই বা শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মামলাকারী স্বামী সেই প্রয়োজনীয় যাচাই করা শংসাপত্রও আদালতে পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখল উচ্চ আদালত।