ব্যান করা সত্ত্বেও কে দিল ককপিটে ঢোকার অনুমতি? ফ্লাইদুবাইয়ের সেই হন্তারক পাইলটকে নিয়ে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’ (flydubai)-এর বিমানে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ নাশকতার ছক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতীয় পাইলটের ওপর কুঠার নিয়ে হামলা চালানোর অভিযুক্ত পাইলটকে অবশেষে চিহ্নিত করা গেছে। জানা গিয়েছে, চরমপন্থী ভাবনাচিন্তার জেরে ওই পাইলটকে আগেই বিমান ওড়ানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ওমান। কিন্তু সমস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে সে এত বড় দায়িত্ব পেল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
গত বুধবার ১৭০ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি। বিমানটি ওড়াচ্ছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর এবং কো-পাইলট হামাম আলহামামি। মাঝ আকাশে হঠাৎই ভারতীয় পাইলটের ওপর কুঠার দিয়ে চড়াও হয় হামাম আলহামামি। এই হামলায় গুরুতর জ্যেষ্ঠ ও রক্তাক্ত হন ক্যাপ্টেন স্মিত। প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, বিমানটিকে সরাসরি ইজরায়েলে ক্র্যাশ করানোর উদ্দেশ্যেই ওই কো-পাইলট এই মারাত্মক হামলা চালিয়েছিল।
কে এই হামলাকারী পাইলট?
অভিযুক্ত পাইলট হামাম আলহামামি জন্মসূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বাসিন্দা হলেও সে মূলত ওমানের নাগরিক। তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরিয়ার নাগরিক হওয়ায় জীবনের একটা বড় অংশ তিনি ওমানের বাইরে কাটিয়েছেন। সিরিয়ায় বেড়ে ওঠার সুবাদেই মূলত তাঁর মনে চরমপন্থী ভাবনাচিন্তার বীজ রোপিত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে কো-পাইলট ট্রেনি হিসেবে কাজ শুরু করার সময় তাঁর কাছে বেশ কিছু উগ্রপন্থী জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। এর জেরে নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি বিবেচনা করে তাঁকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং প্রশাসনিক বিভাগে বদলি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মারোক এয়ারলাইন্সে যোগ দিলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে সে চাকরি ছেড়ে ‘ফ্লাইদুবাই’-এ যোগ দেয়।
ফ্লাইদুবাইয়ের ভূমিকা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ওই পাইলটের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ফ্লাইদুবাই কীভাবে তাঁকে পাইলট হিসেবে নিয়োগ করল? কীভাবে তাকে দুবাই ও ইজরায়েলের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিমান ওড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হলো? মাত্র আট মাস এই সংস্থায় কাজ করার সুবাদেই সে এত বড় নাশকতার ছক কষেছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। এমনকি ঘটনার দিন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত দুটি সন্দেহজনক পোস্টও শেয়ার করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত অনবদ্য সাহসিকতায় বিমানটিকে রক্ষা করা সম্ভব হলেও, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার নিরাপত্তাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।