‘জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ফের দিল্লি চলো!’ ৭০০-র বেশি নেতা আটকের পর হুংকার ককরোচ পার্টির

শনিবার বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন’-এর দ্বিতীয় দিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লির যন্তর মন্তর। আন্দোলন প্রতিহত করতে শুক্রবারই দিল্লি পুলিশ ৭০০-র বেশি বিরোধী নেতা-কর্মী ও প্রতিবাদীকে আটক করে। তবে এই ধরপাকড় সত্ত্বেও পিছু হটতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী দিনে ফের ‘দিল্লি চলো’র চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও বেশি সংখ্যায় দিল্লির দিকে মার্চের ডাক দিয়েছে তারা।

যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার ও তারকারাও
শুক্রবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বাম, কংগ্রেস থেকে শুরু করে আম আদমি পার্টি (আপ)—একাধিক বিরোধী দল প্রতিবাদে পথে নামে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোথাও পুলিশের ধস্তাধস্তি বাধে, আবার কোথাও তাঁদের টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। শুধু দিল্লিতেই নয়, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার রানি রাসমণি রোড থেকেও গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে বামেরা।

এদিকে, গত শুক্রবার মুম্বইতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সূচনা করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের এই আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন জানাতে এগিয়ে আসেন বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও। এদিন দীপকের সঙ্গে দেখা করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং প্রবীণা অভিনেত্রী শাবানা আজমিও। আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আরও বড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপক।

কী বার্তা দিলেন অভিজিৎ দীপক?
সামাজিক মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ একটি পোস্টে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক লিখেছেন, “মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথেই আমাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। দিল্লি পুলিশ আমাদের যেখানে আটকে দেবে, সেটাই আমাদের কাছে যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে। আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে দেওয়া হবে, নাকি গত ২০ জুলাইয়ের মতো বর্বরতা চালানো হবে—তা ঠিক করবে সরকার ও দিল্লি পুলিশ।” সেই সঙ্গে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনকামী সমস্ত নাগরিককে এই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন’-এ সামিল হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে গোটা দেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অতীতে যে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের জেরে নরেন্দ্র মোদি সরকার তাঁদের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল, সেই একই দল এবার সরাসরি জ্ঞানেশ কুমার এবং মোদি সরকারকে নিশানা করে ময়দানে নেমেছে। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে এই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন’ চলবে বলে ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *