নন্দীগ্রাম ছাড়লাম কারণ… কেন নিজের জেতা আসন ছেড়েছিলেন শুভেন্দু? বিস্ফোরক দাবি!

আগামী ৬ অক্টোবর হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন। নির্বাচন উপনির্বাচন হলেও এই একটি আসনকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত গোটা রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতি। কারণ, এই কেন্দ্রটি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া আসনেই এবার লড়াই। আর ভোটের প্রচারে গিয়ে নিজের কেন্দ্র ছাড়ার নেপথ্য আসল কারণ ফাঁস করার পাশাপাশি ২০২১ সালের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার ঘটনা নিয়েও বড় দাবি তুললেন শুভেন্দু অধিকারী।
কেন নন্দীগ্রাম আসন ছাড়লেন শুভেন্দু?
চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও প্রার্থী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং দুটি কেন্দ্র থেকেই তিনি জয়ী হন। পরে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন, যার ফলেই আজ সেখানে ফের উপনির্বাচন হচ্ছে।
এদিন প্রচারের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি কেন এই আসনটি ছেড়েছেন। তাঁর সাফ কথা, নন্দীগ্রাম আসনটি ধরে রাখলে মানুষ যাকে নির্বাচনের মাধ্যমে বিতাড়িত করেছে, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর বা বিধানসভায় ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হতো। মমতাকে রাজনৈতিকভাবে রুখতেই তিনি এই আসনটি ছেড়েছেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন তিনি।
মমতার ‘পা ভাঙা’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
প্রচারমঞ্চ থেকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সেই আলোচিত প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু। সেবার নির্বাচনী প্রচারের সময় নন্দীগ্রামেই পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে ভাঙা পা এবং প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারেই গোটা রাজ্যে প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার সেই প্রসঙ্গ তুলে বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না। তবে সেদিন উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এক্স-রে প্লেট রোগীর কাছেই থাকে। আমার কাছে সেই চিকিৎসকদের দেওয়া রিপোর্ট রয়েছে, যেখানে ‘নো ফ্র্যাকচার’ (No Fracture) লেখা ছিল।”
কীভাবে চোট পেয়েছিলেন মমতা?
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনই পায়ে চোট পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে রাতেই তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে সোজা এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। পায়ে প্লাস্টার করে হুইলচেয়ারে বসেই তিনি ভোটযুদ্ধ চালিয়েছিলেন।
সেই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “আপনাদের বদনাম করে দেওয়া হয়েছিল না? সেদিন গাড়ির দরজা লেগেছিল একটা লোহার পিলারে। দরজাটা ফিরে এসে পায়ে সামান্য একটু চোট লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিলেন! যেদিন প্রয়োজন হবে, চ্যালেঞ্জ করলে আমি সব প্রমাণ দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে, সময়মতো সব প্রকাশ্যে আনব।”
একই সভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত চড়া সুরে আক্রমণ শানান বিরোধী দলনেতা। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, সরকার গঠনের দিনই তিনি বলেছিলেন এই দল ও তার নিশানা একদিন মুছে যাবে, আর ‘বড় চোররাও জেলে যাবে’।