বাড়ি বাড়ি যাবেন BLO-রা”-SIR-এ নাম বাদ? বড় সুযোগ দিল নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার জেরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও উদ্বেগের মাঝেই বড় স্বস্তির খবর শোনাল নির্বাচন কমিশন। স্পেশাল ইন্টেনশিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ফের নাম তোলার সুবর্ণ সুযোগ করে দিল কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় এসেছে। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য এবার সরাসরি বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারসহ দেশের ২০টিরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও (BLO)-দের বাড়ি বাড়ি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের এই বিশেষ অভিযান সফল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেখানেই মূলত এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

আপনার বাড়িতে বিএলও ঠিক কী করবেন?

এই বিশেষ অভিযানে বিএলও-রা এসআইআর-এর আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে নতুন তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখবেন। যেসব যোগ্য নাগরিকের নাম মৃত নন বা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাননি অথচ ভুলবশত নতুন তালিকায় নেই, তাঁদের চিহ্নিত করা হবে। এরপর সেই সমস্ত ভোটারের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিন যাচাই করবেন বিএলও-রা। ভোটার যোগ্য প্রমাণিত হলে ঘটনাস্থলেই ফর্ম-৬ (Form-6) পূরণ করিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

নতুন ভোটার ও সংশোধনের সুযোগ

পাশাপাশি, ১৮ বা ১৯ বছর বয়স হয়েছে এমন নতুন ভোটারদেরও এই তালিকায় নাম তোলার বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো ভোটারের নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্যে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে, ফর্ম-৮ (Form-8) এর মাধ্যমে তা সংশোধনের সুযোগ মিলবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিএলও-রা সংশোধিত ভোটার তালিকা সমস্ত রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ (BLA)-দের সঙ্গেও ভাগ করে নেবেন।

উল্লেখ্য, এসআইআর-এর জেরে নাম বাদ পড়া এবং নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক মামলা অমীমাংসিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত ৩৮.২০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে সে সময় মাত্র ১.০২ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছিল। যার ফলে বহু মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। কমিশনের এই নতুন পদক্ষেপে সেই সমস্যা অনেকটাই সুরাহা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *