শাহরুখ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বই পাড়ি, ফ্লপ ছবি দেখে পকেটে টান! কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন ছোটপর্দার এই সুপারস্টার?

প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ অভিনেতা চোখে তারকা হওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বাণিজ্যনগরী মুম্বই পাড়ি দেন। তবে সবার ঝুলিতে তো আর রাতারাতি সাফল্য আসে না। কারও যাত্রাপথ মসৃণ হয়, তো আবার কেউ চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়ে ভেঙে পড়েন। হিন্দি ছোটপর্দার জনপ্রিয় রোমান্টিক নায়ক মহম্মদ ইকবাল খান—যিনি ইন্ডাস্ট্রিতে ইকবাল খান নামেই সমধিক পরিচিত, তাঁর বাস্তব জীবনকাহিনী এই কঠিন লড়াইয়েরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
শাহরুখ হওয়ার স্বপ্ন ও মুম্বইয়ে পাড়ি
কাশ্মীরে বেড়ে ওঠা ইকবাল ২০ বছর বয়সে, ২০০১ সালে অভিনেতা হওয়ার তীব্র বাসনা নিয়ে মুম্বই এসেছিলেন। তাঁর মনে একটাই জেদ ছিল—শাহরুখ খানের মতো বড় মাপের তারকা হতে হবে। নিজের অভিনয় প্রতিভার জোরে বলিউডে পা রাখলেই সাফল্য তাঁর পায়ে এসে চুমু খাবে, এমনটাই বিশ্বাস করতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের চাকা অন্য দিকে ঘুরছিল।
বলিউডে শুরু ও পরপর ফ্লপ ছবির ধাক্কা
বলিউডে সুযোগ পেতে অবশ্য ইকবালের খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০০৩ সালে ‘ফনটুশ… ডুডস ইন দ্য টেংথ সেঞ্চুরি’ ছবির হাত ধরে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘বুলেট: এক ধামাকা’ ছবিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কপাল এতটাই মন্দ ছিল যে, ইকবালের ছবি যখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়, ঠিক সেই সময়েই বক্স অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শাহরুখ খানের ‘কল হো না হো’, সঞ্জয় দত্তের ‘মুন্না ভাই এম.বি.বি.এস’ কিংবা ‘এলওসি কারগিল’-এর মতো হেভিওয়েট ও তারকাবহুল ছবিগুলো। স্বাভাবিকভাবেই বিশাল বাজেট ও তারকাদের ভিড়ে ইকবালের ছবি দুটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
চরম আর্থিক সঙ্কট ও গাড়ি বিক্রি
পরপর দুটি ছবি ফ্লপ করার পর ইকবালের কাছে নতুন কাজের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আর্থিক অনটন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পকেটের টান সামলাতে বাধ্য হয়ে নিজের প্রিয় গাড়িটি বিক্রি করে দিতে হয় তাঁকে। এরপর বাধ্য হয়ে বাসে চেপে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। হতাশা এতটাই চরম আকার ধারণ করেছিল যে, অভিনয় জগতকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে পাকাপাকিভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবতে শুরু করেছিলেন ইকবাল।
একতার ম্যাজিক ও ছোটপর্দায় রাজত্ব
যখন চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ে মুম্বই ছাড়ার সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ, ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি দুর্দান্ত অফার। শুধুমাত্র মাথার ওপরের ছাদ বজায় রাখা এবং ঘর ভাড়া মেটানোর তাগিদেই বালাজি টেলিফিল্মসের ‘ক্যায়সা ইয়ে পেয়ার হ্যায়’ ধারাবাহিকের প্রস্তাব একবাক্যে মেনে নেন তিনি। এই সিরিয়ালে রকস্টার ‘অঙ্গদ খান্না’র চরিত্রে তাঁর অভিনয়, গম্ভীর গলার আওয়াজ ও পর্দায় ‘ব্যাড বয়’ ইমেজ রাতারাতি দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মনে সেনসেশন তৈরি করে। একতা কাপুরের প্রযোজনায় তৈরি এই মেগা শো প্রাইম-টাইমে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায়। ইকবালের অনবদ্য রোমান্টিক উপস্থিতি ও নারী অনুরাগীদের উন্মাদনা দেখে খোদ একতা কাপুর তাঁকে ছোটপর্দার ‘শাহরুখ খান’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
এর পর আর ইকবালের জীবনে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘ক্যা দিল মে হ্যায়’, ‘কহিন তো হোগা’, ‘তুমহারি পাখি’-র মতো একের পর এক সুপারহিট ধারাবাহিকে কাজ করে তিনি ছোটপর্দার অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকার আসন দখল করেন। পরবর্তীতে ‘জলসা’র মতো সমালোচক-প্রশংসিত সিনেমা এবং ‘ক্র্যাকডাউন’-এর মতো নামজাদা ওয়েব সিরিজেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। ছোটপর্দার এই ‘বাদশা’ আজ প্রমাণ করে দিয়েছেন—অধ্যবসায় আর সঠিক সুযোগের সদ্ব্যবহার জানলে চরম ব্যর্থতার অন্ধকূপ থেকেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।